প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- একদম সঠিক জায়গায় আঘাত করেছে দেশের নির্বাচন কমিশন। এবার নির্বাচন যে অন্যভাবে হবে, তা কমিশনের একের পর এক পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই এসআইআরের আতঙ্কে কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা ইচ্ছে তাই বলতে শুরু করেছেন তিনি। আর নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর দেশের নির্বাচন কমিশন মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদল করা হয়েছে। আর তাতেই যে প্রবল গাত্রদাহ হচ্ছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তা বোঝাই যাচ্ছে। আর এবার নিজের রাখঢাক না রেখে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তিনি একেবারে যে ধরনের চিৎকার চেঁচামেচি করতে শুরু করলেন, তাতেই বোঝা যাচ্ছে যে, তিনি কতটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে রয়েছেন। অন্তত বিরোধীদের পক্ষ থেকে তেমনটাই দাবি করা হচ্ছে।
এবার যে নির্বাচন অন্যরকমভাবে হবে, তা প্রথমেই বুঝিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তাতেই আতঙ্ক বাড়ছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমনিতেই তো তার সরকারকে উৎখাত করার জন্য বিজেপি সব ভাবে তৈরি। তার মধ্যে এসআইআরে প্রচুর ভুয়া ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। যার ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময় আক্রমণ করছেন নির্বাচন কমিশনকে। আর কমিশন খুব ভালোমতই উপলব্ধি করেছে যে, এই রাজ্যে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ নির্বাচন করতে আগে দলদাস প্রশাসনের আধিকারিকদের সরানো প্রয়োজন। তাই নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেই রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ মিনাকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এমনকি রাজ্যের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও বদল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই সমস্ত নির্দেশ আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর স্থির থাকতে পারছেন না। তিনি এবার বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, বিজেপি বাংলা বিরোধী এবং মহিলা বিরোধী। আর সেই কারণেই একজন বাঙালি মহিলাকে মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর আসল উদ্দেশ্য যেই নন্দিনী চক্রবর্তীকে রেখে যাতে তৃণমূলের পক্ষে ভোট আসে, তার জন্য জেলা প্রশাসনকে হুইপ দেওয়া এবং তার জন্য প্রভাব বিস্তার করা এবং সেই কাজ তিনি করতে পারবেন না জন্যেই যে মুখ্যসচিব বদল হওয়াতে তার এত রাগ, তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিরোধীদের কাছে।
এদিন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। আর সেই মিছিল শেষেই একটি সভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে তিনি বলেন, “মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব করছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব একজন বাঙালি মহিলা। নন্দিনী চক্রবর্তী মুখ্যসচিব ছিলেন। আপনারা শুধু বাঙালি বিরোধী নন, আপনারা হিন্দু বিরোধী। নন্দিনী চক্রবর্তীকে রাত্রি সাড়ে ১২ টার পরে তাণ্ডব করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন।”