প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তৃণমূলকে ক্ষমতায় আসার পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান মুখ হলেও, আড়ালে থেকে কি করে রমনীতি সাজাতে হবে এবং কি করে কখন কোন ঘুটি ফেলতে হবে, তার সবটাই করে দেখিয়েছিলেন মুকুল রায়। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসকে তৃণমুকুল কংগ্রেস বলা হত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব সময় ছায়া সঙ্গী ছিলেন তিনি। এমনকি তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পেছনে সব থেকে বড় যদি কারও অবদান থেকে থাকে, তাহলে তার নাম মুকুল রায়। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর ক্রমাগত দলে গুরুত্ব কমেছে এই বঙ্গ রাজনীতির চাণক্যের। যার ফলে তিনি দলবদল পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। বিভিন্ন সময় রাজ্য রাজনীতিতে কান পাতলেই শোনা যায় যে, তৃণমূলে মুকুল রায়ের দল বদলের প্রধান কারণ ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে উত্থান। ক্রমশ তার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই তিনি বিজেপিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে আবার পরবর্তীতে তৃণমূলে ফিরে গিয়েছিলেন মুকুলবাবু। আর আজ তার প্রয়ানের পরেই তাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল থেকে বেরিয়ে নতুন দল গঠন করা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
এই রাজ্যের সকলেই প্রায় স্বীকার করে নেন, তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার পেছনে যদি প্রথম দিকে কয়েকটা নাম থাকে, তাহলে তার মধ্যে অন্যতম নাম মুকুল রায়। প্রত্যেকটি নির্বাচনে কি করে ভালো ফল করতে হবে, তার সবটাই পর্দার আড়ালে থেকে কৌশলের দায়িত্ব ছিল মুকুল বাবুর। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার ওপর ভরসা রাখতেন। তবে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমুল বদলে গিয়েছেন। ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগদান করার পর প্রত্যেকটি সভা থেকেই এই দাবি করতেন মুকুল রায়। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও যে চাপে রাখা যায়, তা ২০১৯ এ তার মস্তিষ্কের ওপর নির্ভর করে লড়াই করে বুঝিয়ে দিয়েছিলো বিজেপি। এক্ষেত্রেও বিজেপির ভালো ফলাফলের পেছনে মুকুল রায়ের অবদান ছিল বলেই মনে করেন সকলে। আর আজ সেই মুকুল রায়ের প্রয়ানের পর রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বরা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করছেন। আর সেই ব্যাপারেই বলতে গিয়ে তৃণমূল দলে মুকুল রায়কে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যেই এই সম্মান পাননি বলেই বুঝিয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর।
এদিন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মুকুল রায়ের মরদেহ নিয়ে আসা হয় রাজ্য বিধানসভায়। আর সেখানেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন বিভিন্ন বিধায়করা। আর মুকুল রায়ের এই চলে যাওয়া নিয়ে বলতে গিয়ে সরাসরি তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলে দেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “মমতা ব্যানার্জি একসময় মুকুল রায়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১২ সালের পর ধীরে ধীরে মুকুলদার গুরুত্ব কমে গিয়েছিল। আর এর জন্য একমাত্র দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুকুলদার জন্যই কিন্তু মমতা ব্যানার্জি ২০১১ সালে গদিতে এসেছিলেন। কিন্তু সেই যোগ্য সম্মানটা মুকুলদা পাননি।”