প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নেপালে ধেয়ে আসা বিধ্বংসী হড়পা বানের (Flash Floods) জেরে এবার চরম বিপাকে বাংলার এক হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক পরিবার। কৈলাস-মানস সরোবর বেড়াতে গিয়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের একমাত্র পুত্রবধূ তথা বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত বুধবার থেকে তাঁর সাথে সমস্ত রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে গোটা পরিবার।পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ আগস্ট ওখানকার একটি নামী ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে একা মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা দেবী। তিব্বত সীমান্তের রসুয়াগড়ি ট্রানজিট পয়েন্টের কাছে কিয়িরং (Kyirong) নামক একটি পাহাড়ি এলাকায় ছিলেন তিনি।
স্বামী শুভ্রাংশু রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১১টা নাগাদ শেষবারের মতো স্ত্রীর সাথে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। তখন শর্মিষ্ঠা দেবী জানিয়েছিলেন তিনি ভালো আছেন। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে নেপাল সীমান্ত জুড়ে মেঘভাঙা বৃষ্টি, ভূমিকম্প ও ভয়াবহ ধস নামার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ইন্টারনেট ও টেলিকম যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় আর কোনোভাবেই তাঁর সন্ধান মিলছে না।
জানা যাচ্ছে, নেপালের যে অংশে মূল হড়পা বান আছড়ে পড়েছে, সেখান থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলেন শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। তাঁর সাথে কলকাতার আরও ৩২ জন তীর্থযাত্রীর একটি দল রয়েছে। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উদ্ধারকারী দলও সহজে সেই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারছে না।
স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই দুই সন্তানকে নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন শুভ্রাংশু রায়। স্ত্রীর খোঁজে এবং তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য তিনি ইতিমধ্যেই নবান্নের শীর্ষ আধিকারিক এবং কাঠমাণ্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও নিখোঁজদের তালিকা তৈরি করে নেপাল প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সাধন করছে। নেপালে ধসের জেরে ইতিমধ্যেই দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে কলকাতার এই হাইপ্রোফাইল পরিবারসহ নিখোঁজ হওয়া বাকি সমস্ত বাঙালি পর্যটকদের পরিবারে এখন চরম আশঙ্কার মেঘ জমেছে। ঈশ্বরের কাছে তাঁদের দ্রুত ও সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তনের প্রার্থনা করছে রাজনৈতিক মহল।