প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipality Recruitment Scam) তদন্তের গতি বাড়াতে এবার আরও এক বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিক পাঁচু রায়কে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় এজেন্সির নির্দেশ মেনে আজ, সোমবার সকালেই ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে পাঁচু রায়কে। আর এই জেরা পর্বকে ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বড়সড় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। কাকতালীয়ভাবে, সেই সময় ওই পুরসভার প্রশাসনিক অলিন্দে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এই দুই হেভিওয়েট। পাঁচু রায় যখন দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বে আসীন ছিলেন, তখন তাঁর ডেপুটি অর্থাৎ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন সুজিত বসু। সম্প্রতি এই মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি আধিকারিকরা প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, ওই পুরসভায় অন্তত ৩২৯টি পদে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরি বিক্রি করা হয়েছিল। শ্রমিক, ঝাড়ুদার, ক্লার্ক এবং অ্যাম্বুলেন্স অ্যাটেনডেন্টের মত শূন্যপদে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের নিয়োগ করার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তের জাল গুটিয়ে আনতে গিয়ে ইডি জানতে পেরেছে, এই নিয়োগের নেপথ্যে অন্যতম মূল চক্রী ছিলেন প্রোমোটার তথা মিডলম্যান অয়ন শীল। অয়নের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজোন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে ওএমআর (OMR) শিট মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি চালনা করা হতো। অভিযোগ, এই ওয়ান-উইন্ডো এজেন্সির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, যার একটি বড় অংশ প্রভাবশালী রাজনীতিকদের পকেটে গিয়েছে।ইডির আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বয়ানে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে, যা তৎকালীন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়ের বয়ানের সাথে মিলিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। সুজিত বসু কার সুপারিশে এবং কার নির্দেশে অন্তত ১৫০ জন প্রার্থীর নাম পাঠিয়েছিলেন, তা জানতেই এই মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের (Face-to-face Interrogation) ছক কষেছে ইডি।
এর আগে অপর কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই (CBI) এই মামলায় আলিপুর আদালতে চার্জশিট পেশ করেছিল, যেখানে পাঁচু রায়ের সময়কালে কোভিড আবহে রাতারাতি ২৯ জনের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের উল্লেখ ছিল। এবার ইডি মানি লন্ডারিং বা আর্থিক তছরুপের দিকটি খতিয়ে দেখতে পাঁচু রায়কে কোণঠাসা করতে চাইছে। আজ সিজিও কমপ্লেক্সে পাঁচু রায়ের ল্যাপটপ, মোবাইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল নথি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেগা জেরা পর্বের পর পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কোনো নতুন এবং বড়সড় তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।