প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই তপ্ত মুর্শিদাবাদ। ভোটের ঠিক মুখে এক মারাত্মক ও বিস্ফোরক অডিও ক্লিপ সমাজমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি, উপনির্বাচনের আগে সমগ্র এলাকায় বড়সড় সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর জন্য নেপথ্যে এক রুদ্ধশ্বাস চক্রান্ত কষা হচ্ছিল। এই মারাত্মক তথ্য সামনে আসতেই আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে জেলাজুড়ে ব্যাপক অভিযানে নেমেছে পুলিশ এবং ইতিমধ্যেই এই চক্রের সাথে জড়িত সন্দেহে সরফরাজ নওয়াজ চৌধুরী নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ভাইরাল অডিওর একটি কণ্ঠস্বর নিজের বলে সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে তাঁর দাবি, এর পেছনে কোনো নাশকতার ছক ছিল না।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফোন কথোপকথনের রেকর্ডটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সেখানে বাবরি মসজিদ ইস্যু তুলে ধরে এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করার এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে অশান্তি পাকানোর একটি গোপন কথোপকথন শোনা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, সুপরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কিছু সংবেদনশীল এলাকায় প্রতিপক্ষ বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি বন্ধ রাখার মতো মারাত্মক চক্রান্তের বিষয়েও আলোচনা করতে শোনা গিয়েছে ওই ক্লিপে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার (SP) শচীন মক্কার জানিয়েছেন, এই অডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে তোলা হয় এবং সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বহরমপুর এলাকা থেকে নওদার বাসিন্দা সরফরাজ নওয়াজ চৌধুরী (৪৭) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত ব্যক্তির গলার আওয়াজের সত্যতা নিশ্চিত করতে অডিও ক্লিপটি অবিলম্বে রাজ্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপের একটি কণ্ঠস্বর যে তাঁরই, তা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে স্পষ্ট ভাষায় মেনে নিয়েছেন এজেউপি (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর। তবে নাশকতার তত্ত্ব সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ রাজনৈতিক ঘরোয়া আলোচনা ছিল। এর মধ্যে কোনও দাঙ্গা বা উসকানিমূলক হিংসার চক্রান্ত ছিল না। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর উপনির্বাচনে আমাদের দল প্রার্থী দিয়েছে। ভোটের আগে আমাদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতেই পুলিশ এই ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে।” উল্লেখ্য, রেজিনগর আসনে আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই উপনির্বাচনে তাঁর দল AJUP-র টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হুমায়ুনের পুত্র।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি নিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। এই ঘটনার পর বিজেপি জেলা নেতৃত্বের দাবি, যারা ভোটের বৈতরণী পার হতে ফের জেলাকে অশান্ত করতে চাইছে, পুলিশ তাদের কাউকেই রেয়াত করবে না।ইতিমধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর ধরপাকড়ের প্রতিবাদে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার সামনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিশাল ধরনা ও বিক্ষোভ সমাবেশে বসেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ধৃত সরফরাজকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই গভীর চক্রান্তের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে আর কোন কোন প্রভাবশালী রাজনৈতিক মাথা জড়িয়ে রয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হবে।