প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা উপনির্বাচনের রণডঙ্কা বাজার পর থেকেই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ চড়ছিল। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষলগ্নে এসে যে এমন এক চরম নাটকীয় মোড় নেবে, তা বোধহয় অতিবড় রাজনৈতিক বিশ্লেষকও আন্দাজ করতে পারেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের ঘোষিত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে আচমকাই তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কার্যত দিশেহারা ঘাসফুল শিবির। এই নজিরবিহীন ভরাডুবির আবহেই এবার দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি চরম তোপ দেগে বিস্ফোরক বয়ান দিলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম প্রবীণ মুখ তথা তৃণমূল নেতা আবু তাহের। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে আবু তাহেরের করা এক একটি মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থী চয়ন এবং সংগঠনের বর্তমান কঙ্কালসার দশা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন আবু তাহের। নাম না করে দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “আমি এটা আরও পূর্বে বলেছিলাম, ওনাকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আবার কেউ না কেউ ভুল বুঝিয়ে প্রার্থীটা দিয়েছে। তিনি চোখ দিয়ে দেখেননি, কান দিয়ে দেখতেন। সব নকল লোককে পাশে বসিয়ে রাজনীতি করেছেন।” আবু তাহেরের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দলের অন্দরের আদি বনাম নব্য লড়াই এবং কিছু নির্দিষ্ট নেতার ভুল পরামর্শে যে সংগঠন আজ ধ্বংসের মুখে, আবু তাহেরের কথাতেই তা পরিষ্কার। তিনি আরও যোগ করেন, নিচুতলার কর্মীরা যখনই কোনো আসল পরিস্থিতি জানাতে যেতেন, তখন ওপর তলা থেকে বলা হতো—সব নাকি তাঁদের নখদর্পণে রয়েছে। অথচ আজকের পরিস্থিতি প্রমাণ করছে বাস্তব কতটা আলাদা।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর যখন তৃণমূল নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ভাবছে, তখন মাঠের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আবু তাহের বলেন, “আজকে ওনার ফসল অন্য লোক জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, আটকাতে পারছেন না। মাঠে খেলবে কে? একটা খেলোয়াড়ও নেই, সমস্ত খেলোয়াড় আজ ছত্রভঙ্গ।” উপনির্বাচনের ঠিক মুখে দলের এই হেভিওয়েট নেতার এমন হতাশা এবং বিদ্রোহের সুর বিরোধী শিবিরের হাতকে আরও শক্ত করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।