প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-হাই-ভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক আকাশে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়া এই মেগা লড়াইয়ের প্রথম রাউন্ডের ইভিএম গণনা শেষ হতেই গণনা কেন্দ্রের ভেতরে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম রাউন্ডের শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধানের থেকে ৯,৬০০-রও বেশি ভোটের এক অবিশ্বাস্য ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন। প্রথম রাউন্ডেই বিজেপির এই বিশাল ও আকাশচুম্বী লিডের খবর ডিসপ্লে বোর্ডে ভেসে উঠতেই গণনা কক্ষের ভেতরে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের এজেন্টদের মধ্যে তীব্র শোরগোল ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, এই অভাবনীয় গেরুয়া ঝড় সহ্য করতে না পেরে একাধিক বিরোধী প্রার্থীর এজেন্টরা গণনা কক্ষের ভেতরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন এবং তাঁদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা দেখা যায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, মাত্র প্রথম রাউন্ডেই এই ‘শব্দভেদী’ মার্জিনের ধাক্কা দেখে অনেক বিরোধী এজেন্ট কাউন্টিং হল থেকে পাততাড়ি গোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া এই হাই-প্রোফাইল গড়ে জয়ের ধারা বজায় রাখতে শুরু থেকেই মরিয়া ছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু প্রথম রাউন্ডের কাউন্টিং শেষ হতেই দেখা যাচ্ছে, বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ কার্যত একাই পুরো ভোট ব্যাংক নিজের পকেটে পুরে নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান কিংবা তাঁর নেপথ্যে থাকা মমতা ব্রিগেডের সমস্ত অলীক রাজনৈতিক সমীকরণ ও রণকৌশলকে প্রথম রাউন্ডেই ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন নন্দীগ্রামের সাধারণ ভোটাররা।

গণনাকেন্দ্রের বাইরে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “ভোটের আগে যারা নন্দীগ্রামে বড় বড় কথা বলছিল, আজ ইভিএম বাক্স খুলতেই তাদের আসল যোগ্যতা প্রকাশ পেয়ে গিয়েছে। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের সুশাসন এবং ঘরের মেয়ের প্রতি নন্দীগ্রামের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা দেখে আজ পুরো বিরোধী লবির মুখ চুন হয়ে গিয়েছে। তারা একটা রাউন্ডেই পুরোপুরি কোণঠাসা।” গেরুয়া সমর্থকদের কটাক্ষ—প্রথম রাউন্ডেই যদি এই হাল হয়, তবে বাকি রাউন্ডের গণনা শেষ হতে হতে বিরোধীদের প্যান্ট ঢিলে হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না!

প্রথম রাউন্ডের এই নজিরবিহীন ধাক্কার পর স্বভাবতই ক্ষোভ, আতঙ্ক ও হতাশায় ডুবেছে কংগ্রেস ও তৃণমূলের যৌথ লবি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের কটাক্ষ—হারের মুখ দেখলেই বিরোধীরা যেভাবে নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার না করে ইভিএম হ্যাকিং বা প্রশাসনের ওপর দোষ চাপানোর পুরনো ভাঙা রেকর্ড বাজানো শুরু করে, এবারও নন্দীগ্রামের গণনা কক্ষের ভেতর থেকে ঠিক একই বিভ্রান্তিকর সুর শোনা যাচ্ছে। তবে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের রায় যে এবারও স্পষ্ট, তা প্রথম রাউন্ডের এই ৯৬০০-রও বেশি ভোটের মার্জিন থেকেই প্রমাণিত।