প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগেই ঘটে গেল এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অফিশিয়াল নাম ও ঘাসফুল প্রতীক নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ফ্রিজ হওয়ার ঠিক পরদিনই নন্দীগ্রামের লড়াই থেকে সরাসরি সরে দাঁড়ালেন কালীঘাটপন্থী শিবিরের প্রার্থী তথা শিক্ষিকা সঞ্চিতা প্রধান দে। আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কার্যত কোনো লড়াই ছাড়াই মমতাপন্থী শিবিরের অস্তিত্ব পুরোপুরি মুছে গেল এবং রাজনৈতিক মহলের মতে, আসনটি সরাসরি বিজেপিকে ওয়াকওভার দিয়ে দেওয়া হলো।
আজ দুপুরের দিকে আচমকাই স্বামী সত্যজিতের সঙ্গে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্নে হাজির হন সঞ্চিতা প্রধান দে। সেখানে তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘আশীর্বাদ’ নিতেই তাঁর এই আচমকা আগমন।এই হাইপ্রোফাইল সাক্ষাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়। আর সেই জল্পনাকে সত্যি করে নবান্ন থেকে বেরনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সঞ্চিতা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচন কমিশনের একটি বড় নির্দেশ কাজ করেছে। গতকালই (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূলের দুই বিবদমান গোষ্ঠীর কাউকেই আসল নাম ও ‘ঘাসফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে না দেওয়ার অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে। প্রতীক হারানোর পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই নন্দীগ্রামের প্রার্থী স্বয়ং লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর রাস্তা বেছে নেওয়ায় কালীঘাট শিবিরের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেল।
বিগত দিনে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে যেভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের ইতিহাস তৈরি হয়েছিল, রাজনৈতিক মহল মনে করছে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনেও ঠিক একই মডেলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। মমতাপন্থী শিবিরের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর আকস্মিক মনোনয়ন প্রত্যাহারে বিরোধী শূন্য ময়দানে এখন গেরুয়া শিবিরের জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এই চরম ডামাডোলে নন্দীগ্রামের মাটি যে সম্পূর্ণভাবে শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবেই রয়ে গেল, তা আজ আরও একবার প্রমাণিত হলো।