প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই আজ (শনিবার) হলদিয়া মহকুমা আদালতে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হলো। ১৯ বছর পুরনো মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে আজ কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর আইনজীবী জামিনের জন্য জোরদার সওয়াল করলেও, পুলিশের অনড় অবস্থান এবং পুরোনো মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারক মিলন প্রধানের জামিনের আবেদন খারিজ করে আগামী ৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জেল হেফাজতের (Judicial Custody) নির্দেশ দিয়েছেন।এর ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের ভোটের প্রচার তো দূর, ভোটগ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে পর্যন্ত জেলেই কাটতে হচ্ছে এই হেভিওয়েট বিরোধী প্রার্থীকে।

আজ হলদিয়া আদালতে রাজ্য পুলিশের সরকারি আইনজীবী এবং মিলন প্রধানের ডিফেন্স কাউন্সিলের মধ্যে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। রাজ্য পুলিশের পক্ষে আদালতে স্পষ্ট জানানো হয়, মিলন প্রধান ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কালীন দাঙ্গা, বেআইনি অস্ত্র রাখা, অপহরণ এবং খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলার আসামি। পুলিশি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তিনি গত ১৯ বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে সম্পূর্ণ ‘ফেরার’ (Absconding) ছিলেন এবং পুলিশ এতদিন তাঁর সন্ধান পায়নি। মিলন প্রধানের আইনজীবী আজ আদালতে অভিযোগ করেন, এই মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ১৯ বছর ধরে পুলিশ চুপ থাকার পর ঠিক ভোটের মুখেই কেন তাঁকে ‘ফেরার’ তকমা দিয়ে ধরা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ৪টি পৃথক ওয়ারেন্টের মধ্যে ৩টি ওয়ারেন্টের প্রেক্ষিতেই বিচারক আজ তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

আজকের শুনানির পর মিলন প্রধানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম থানার ৩টি মামলার ওয়ারেন্টে আজ জেল হেফাজত দেওয়া হলেও, আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মিলন প্রধানকে কাঁথি মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। খেজুরি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া বেআইনি অস্ত্র আইনের (Arms Act) চতুর্থ ওয়ারেন্টটির শুনানির জন্যই তাঁকে সোমবার কাঁথি কোর্টে নিয়ে যাওয়া হবে।

নন্দীগ্রামে আগামী ৬ অক্টোবর ভোট এবং প্রচারের শেষ দিন ৪ অক্টোবর। যেহেতু ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মিলন প্রধান জেলেই থাকছেন, তাই নিজের কেন্দ্রে আর এক মুহূর্তের জন্যও নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন না তিনি। এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে আজ শনিবার কলকাতায় এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আজ সুর চড়িয়ে বলেন, “মিথ্যা কেস সাজিয়ে আমাদের প্রার্থীকে বন্দি করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে আবেদন, আপনারা মিলন প্রধানকে দেখতে না পেলেও নিজেরা একেকজন মিলন প্রধান হয়ে বুথে গিয়ে হাত চিহ্নে ভোট দিয়ে এই অত্যাচারের জবাব দিন।” অন্যদিকে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আজ সমাজমাধ্যমে এই গ্রেফতারিকে বিজেপির “প্রতিহিংসার রাজনীতি” ও “গণতন্ত্র হত্যা” বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।

শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে সমস্ত রাজনৈতিক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, আদালত জামিন নাকচ করেছে, এর মধ্যে সরকারের কোনো হাত নেই। খুনের মামলা ও অস্ত্রের মামলায় অভিযুক্ত কোনো ফেরার আসামিকে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের আইন মেনেই গ্রেফতার করা কর্তব্য, যা আজ পুলিশ দক্ষতার সাথে করেছে।