প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের তপ্ত নন্দীগ্রামের মাটি। বুধবার দুপুরে নন্দীগ্রামের দীনবন্ধুপুর এলাকায় জনসংযোগ সারতে গিয়ে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মেজাজ না হারিয়ে বরং উল্টে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, “২০২১ আর ২০২৬ এক নয়, দিনকাল বদলে গিয়েছে।”
নির্বাচনী প্রচারের অঙ্গ হিসেবে আজ দীনবন্ধুপুর এলাকায় ঠাসা কর্মসূচি ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। স্থানীয় একটি মুসলিম পরিবারের আমন্ত্রণে তাঁদের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাঁর কনভয় এলাকায় পৌঁছতেই একদল লোক পথ আটকানোর চেষ্টা করে। শুভেন্দুর গাড়ি লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করে বিক্ষোভ কারীরা। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে নিরাপত্তারক্ষীরা শুভেন্দুকে গাড়ির ভেতরে থাকার অনুরোধ করলেও, দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি।
বিক্ষোভের আঁচ পেতেই চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে পড়েন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। নিরাপত্তার বলয় উপেক্ষা করেই তিনি সোজা পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের সামনে। আঙুল উঁচিয়ে অত্যন্ত শান্ত অথচ দৃঢ় স্বরে তিনি বলেন, “আমি এই মাটির সন্তান। এই এলাকার বিধায়ক আমি। কার বাড়িতে যাব আর কার বাড়িতে যাব না, সেটা ঠিক করার অধিকার আপনাদের নেই। একজন বিধায়ক হিসেবে সব বাড়িতে যাওয়ার অধিকার আমার রয়েছে।” শুভেন্দুর এই রণংদেহি মূর্তি দেখে কার্যত থতমত খেয়ে যান বিক্ষোভকারীরা।
তিনি আরও যোগ করেন, “২০২১ সালের মতো গুন্ডামি করার দিন শেষ। এখন সময় বদলেছে, পরিস্থিতি বদলেছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিলে তার ফল ভালো হবে না।” শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাসী মেজাজ দেখে এলাকায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও চাঙ্গা হয়ে ওঠেন। তাঁরাও পালটা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। দুই পক্ষের স্লোগান-পালটা স্লোগানে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামের মাটি নিজের কবজায় রাখতে শুভেন্দু যে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বেন না, এদিন দীনবন্ধুপুরের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করল। বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে শুভেন্দুকে সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতে ঢুকতে বাধা দিয়ে একটি মেরুকরণের চেষ্টা করলেও, শুভেন্দু যেভাবে নিজে গাড়ি থেকে নেমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন, তাতে সেই ছক ভেস্তে গিয়েছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর জনপ্রিয়তা দেখে বিরোধীরা আতঙ্কিত। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় ভয় পেয়েই কিছু উস্কানিদাতা দিয়ে এই ধরনের বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। তবে শুভেন্দু যেভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন, তাতে কর্মীদের মনোবল তুঙ্গে উঠেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।