প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
গতকাল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে তোলপাড়। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে পবিত্র করকে প্রার্থী করায় কটাক্ষের বাণ ছুটিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। আজ প্রচার ময়দান থেকে দিলীপবাবু সোজাসাপ্টা ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূলের কাছে নন্দীগ্রামে লড়াই করার মত কোনো যোগ্য প্রার্থী নেই। মুখ্যমন্ত্রী নিজে তো আর ওখানে দাঁড়ানোর সাহস পাবেন না, কারণ ন্যাড়া একবারের বেশি বেলতলায় যায় না! তাই আমাদের কাছ থেকেই প্রার্থী ধার করে ওদের ঘর ভরাতে হচ্ছে”। দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন যে, ২০২১-এর তিক্ত অভিজ্ঞতার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের দিকে পা বাড়ানোর সাহস পাননি। তিনি বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে ধাওয়া করে ভবানীপুরে পৌঁছে দিয়েছি। তাঁকে সেখানে আটকে দিয়েছি যাতে নন্দীগ্রামে আসার কথা তিনি মাথাতেও না আনেন”।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে এবার যাকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে, সেই পবিত্র কর ২০২১ সালেও শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে ময়দান কাঁপিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, এটি বরাবরই একটি কঠিন গড়। ২০২১ সালের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ১,১০,৭৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১,০৮,৮০৮ ভোট পান। জয়ের ব্যবধান ছিলো ১,৯৫৬ ভোট।২০১৬ সালে অবশ্য ছবিটা আলাদা ছিল। তখন তৃণমূলের হয়ে শুভেন্দু অধিকারী ১,৩৪,৬২৩ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জিতেছিলেন। কিন্তু দলবদলের পর সেই সমর্থন শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপির ঝুলিতে চলে আসে।
দিলীপ ঘোষের মতে, “যাদের (পবিত্র কর) আজ তৃণমূল প্রার্থী করছে, তারা আমাদের হাত ধরেই লড়াই শিখেছে”। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ আসলে ব্যাকফুট থেকে খেলা। পবিত্র করের স্ত্রী শিউলি কর এখনও বিজেপির টিকিটে জেতা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন, যিনি পবিত্রর প্রার্থী হওয়ার পরই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বিজেপি একে ‘ঘর থেকে ধার নেওয়া’ প্রার্থী হিসেবে প্রচার করে তৃণমূলের ‘যোগ্য নেতার অভাব’ জনসমক্ষে তুলে ধরতে চাইছে। এখন প্রশ্ন হলো, পবিত্র কর কি পারবেন শুভেন্দুর সেই ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে, নাকি দিলীপ ঘোষের ভবিষ্যদ্বাণী মতই নন্দীগ্রামে ফের ফুটবে পদ্ম? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।