প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুটি হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচনের ভোটগণনা শুরুর পর থেকেই কার্যত ধরাশায়ী বিরোধী শিবির। প্রাথমিক রাউন্ডের নির্বাচনী ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট, নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম বড় নির্বাচনী অ্যাসিড টেস্টে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে বিরোধীদের সমস্ত প্রতিরোধ।

হাইপ্রোফাইল নন্দীগ্রাম আসনে ১১ রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ৯০,২০৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন। বিজেপি শিবিরের দাবি, এই ব্যবধান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে নন্দীগ্রামের মানুষ শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নমুখী রাজনীতির ওপরেই পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যেভাবে কংগ্রেস সমর্থিত তৃণমূল প্রার্থী মিলন প্রধান এখানে পিছিয়ে পড়েছেন, তাতে বিরোধীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং জোটের ব্যর্থতাই সাধারণ মানুষের সামনে প্রকট হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে। ১২ রাউন্ড গণনার পর বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ৭০,২৫০ ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করতে চেয়েছিল, রেজিনগরের এই ট্রেন্ড তাদের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবিরের খাসতালুকে এই শোচনীয় পরিস্থিতি বিরোধীদের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির দেউলিয়াপনাকেই প্রমাণ করছে বলে কটাক্ষ করছে গেরুয়া শিবির।

ভোটগণনার শুরু থেকেই যথারীতি পরাজয়ের আগাম আভাস পেয়েই বিরোধীরা ‘ভোট লুঠ’ এবং ‘সন্ত্রাসের’ চেনা অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ শান্তিপূর্ণ ভোটদান সম্পন্ন হয়েছিল, সেখানে বিরোধীদের এই কান্নাকাটি আসলে নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। গণনার গতিপ্রকৃতি যা বলছে, তাতে এই দুই কেন্দ্রেই বিজেপির রেকর্ড মার্জিনে ঐতিহাসিক জয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উপনির্বাচনের ফল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের জনমোহিনী নীতির ওপর জনগণের সিলমোহর দিতে চলেছে।