প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মহারণের আগে আজ কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত কম্পন ধরিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার কলকাতার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শাহ যে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘নারী শক্তি’ এবং ‘নিরাপত্তা’। রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহের এই ঘোষণা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে আমূল বদলে দেওয়ার এক ব্লু-প্রিন্ট।
অমিত শাহ আজ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়লে সমস্ত রাজ্য সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে। তিনি বলেন, “মেয়েরা কেবল ঘরের কাজ করবে না, তারা প্রশাসন চালাবে।” বর্তমানে রাজ্যে কর্মসংস্থানের যে আকাল চলছে, সেখানে এই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ শিক্ষিত তরুণী ও মহিলাদের জন্য এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ থেকে শুরু করে সচিবালয়—সব জায়গাতেই মহিলাদের উপস্থিতি এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়বে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে বারেবারে প্রশ্ন উঠেছে। এই ক্ষতে প্রলেপ দিতে শাহের মাস্টারস্ট্রোক হলো—রাজ্যের প্রতিটি মণ্ডলে একটি করে স্বতন্ত্র মহিলা থানা স্থাপন করা। শাহ জানিয়েছেন, এই থানাগুলোতে কেবল মহিলা পুলিশ কর্মীরাই থাকবেন, যাতে মহিলারা যে কোনো অভিযোগ বা সমস্যার কথা দ্বিধাহীনভাবে জানাতে পারেন। গ্রামীণ এলাকা থেকে শহর—কোথাও যেন কোনো নারী বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
থানার পাশাপাশি প্রতিটি পুলিশ জেলায় তৈরি করা হবে বিশেষ ‘মহিলা ডেস্ক’। শাহের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই ডেস্কগুলো দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। অর্থাৎ, মাঝরাতেও যদি কোনো মহিলা বিপদে পড়েন, তবে এই ডেডিকেটেড ডেস্ক থেকে তৎক্ষণাৎ আইনি ও নিরাপত্তা সহায়তা মিলবে। পুলিশের এই সক্রিয়তা রাজ্যের অপরাধ দমনে এক বড় ভূমিকা নেবে বলে শাহ দাবি করেন।
এদিন ইস্তেহার প্রকাশের মঞ্চ থেকে সুর চড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে কখনও এমন কথা বলতে হবে না যে, মহিলারা কেন রাতে বাইরে বেরিয়েছেন।” তিনি সাফ জানান, মহিলাদের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। মহিলারা কখন বাইরে বেরোবেন বা না বেরোবেন, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই ‘মহিলা কার্ড’ এবং প্রশাসনিক রদবদলের প্রতিশ্রুতি রাজ্যের নারী ভোটব্যাংকে বড়সড় ভাঙন ধরাতে পারে। সংকল্প পত্রের এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে নারী মহলে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন দেখার, নির্বাচনের বাক্সে শাহের এই ‘শাহী ঘোষণা’ কতটা প্রভাব ফেলে।