প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশ কাঁপানো NEET-UG প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের জেরে অবশেষে নতিস্বীকার করে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হলো মোদি সরকার। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় (Constitution Club of India) সরকার পক্ষ এবং আন্দোলনকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিনিধি দলের মধ্যে এক হাইভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু টানা ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা গভীর আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমাধানসূত্র মেলেনি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আন্দোলনের জট কাটাতে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের প্রধান দাবিতে অনড় থাকায় বৈঠক কার্যত অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ, শনিবার আবারও দু’পক্ষ দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসছে বলে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং-এর উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে সরকারের তরফ থেকে আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে ৪টি বিশেষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা ছাত্রছাত্রী বা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার পুলিশি এফআইআর (FIR) বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, নিট কেলেঙ্কারির জেরে মানসিক অবসাদে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার মূল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনের স্পষ্ট বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থার এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের নৈতিক দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিনিধি দল এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক্তিয়ারভুক্ত বলে আরও কিছুটা সময় চেয়েছে। আর এই একটি জায়গাতেই এসে ২ ঘণ্টার বৈঠকটি থমকে যায়।

প্রথম দফার আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধানে না পৌঁছালেও আলোচনার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা এবং সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে কেন্দ্র কোনোভাবেই এই আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে চাইছে না। সিজেপি (CJP) প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে সরকারের থেকে সুনির্দিষ্ট ও জোরালো পদক্ষেপের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। ফলে আজ শনিবারের এই দ্বিতীয় দফার বৈঠকটি আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।