প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত এক মাসের ব্যবধানে আবার এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া টানা ৪ দিনের প্রলয়ংকরী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং একাধিক জায়গায় মারাত্মক ভূমিধসের কারণে গোটা দেশজুড়ে নজিরবিহীন হাহাকার তৈরি হয়েছে। নেপালের জাতীয় বিপর্যয় হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই দুর্যোগে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত ২১ জনের মধ্যে ১৪ জনই প্রাণ হারিয়েছেন সরাসরি ভূমিধসের কারণে। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে বন্যা ও লাগাতার বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট অন্যান্য দুর্ঘটনায়।
সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নেপালের পাহাড়ি জেলা মুস্তানে (Mustang)। গত ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ মুস্তানের লেতে (Lete) এলাকায় একটি আস্ত পাহাড়ের বিশাল অংশ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। এই বিশাল ধসের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি আছড়ে পড়ে নিচে থাকা কালী গণ্ডকী (Kali Gandaki) নদীর ওপর, যার ফলে নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ সাময়িকভাবে পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারাত্মকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ধসের কারণে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বেনী-জোমসম (Beni-Jomsom) এবং জোমসম-কোরালা সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
NDRRMA-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪ দিনের এই লাগাতার প্রাকৃতিক তাণ্ডবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২৬০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গিয়েছে এবং আরও ৮০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ২৪৭ টিরও বেশি পরিবার সরাসরি ভিটেমাটিহীন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং সেনা জওয়ানরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত উপদ্রুত পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৩,০০০ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভূপ্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে নেপালের দুর্গম পাহাড়ি জেলা যেমন—জাজারকোট (Jajarkot), মিয়াগদি (Myagdi), বাগলুং (Baglung) এবং সঙ্খুয়াসভা (Sankhuwasabha) এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগলুং জেলার নিসিখোলা গ্রামে ধসের নিচে বাড়ি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের এয়ারলিফ্ট করতে প্রশনের তরফে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। উলেখ্য, এর ঠিক এক মাস আগে, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬-এ নেপাল-চীন সীমান্তের লাংটাং অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পা বাণে ১,৪৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই ট্র্যাজেডির ক্ষত শুকোনোর আগেই এই নতুন বিপর্যয় নেপালজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।