প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ (CAA) ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত একটি মেগা অনুষ্ঠানে উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ৩০০ জন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে অফিশিয়াল নাগরিকত্ব শংসাপত্র (CAA Certificate) তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিশেষ মঞ্চ থেকেই বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ থেকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সাধারণ মানুষের মনে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। CAA-এর মতো একটি জনকল্যাণমূলক আইনকে এনআরসি (NRC) বলে সাধারণ মানুষের মনে জুজু বা ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, কীভাবে আগের মুখ্যমন্ত্রী খোদ এই আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে একের পর এক রাজনৈতিক মিছিল করেছিলেন এবং রাজ্যজুড়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে ক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

বিরোধীদের সমস্ত কুৎসার জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বড় আশ্বাস দিয়ে বলেন, “CAA কারও নাগরিকত্ব কাড়তে নয়, উৎপীড়িত মানুষদের সম্মান ও নাগরিকত্ব দিতেই তৈরি করা হয়েছে।” তিনি বিশেষভাবে আশ্বস্ত করেন যে, এই আইনের মাধ্যমে বিশেষত মতুয়া এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু রিফিউজি বা শরণার্থীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটছে এবং তাঁরা সম্পূর্ণ আইনি উপায়ে ভারতের স্থায়ী নাগরিকের অধিকার পাচ্ছেন।

শংসাপত্র প্রদানের পাশাপাশি সিএএ আবেদনকারীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক এবং বড় একটি সময়সীমা (Timeline) বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে সিএএ (CAA)-র অধীনে জমা পড়া সমস্ত আবেদনের দ্রুত যাচাইকরণ এবং আইনি নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনও আবেদনকারীকে যাতে বছরের পর বছর সরকারি দফতরের চক্কর কাটতে না হয়, বর্তমান বিজেপি সরকার তা কড়া নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত করবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল নতুন সরকার, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও মজবুত করবে।