প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোট গণনা মানেই স্নায়ুর লড়াই। কিন্তু সেই লড়াইয়ে কি শেষে ধৈর্য আর নিয়ম—দুই-ই হারালেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন কলকাতার হেস্টিংসের গণনাকেন্দ্রে যে দৃশ্য দেখা গেল, তাতে ফের একবার জোড়াফুল শিবিরের ‘আইন না মানার’ সংস্কৃতিই প্রকট হয়ে উঠল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সোমবার হেস্টিংসের সেন্ট মেরিজ স্কুলের গণনাকেন্দ্রে হঠাৎই উদয় হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়ম অনুযায়ী, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে কেবল সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রার্থী বা তাঁর অনুমোদিত নির্বাচনী এজেন্ট থাকতে পারেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন না, তবুও তিনি ভেতরে প্রবেশ করায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।

বিষয়টি নজরে আসতেই সক্রিয় হয় নির্বাচন কমিশন। কোনওরকম রেয়াত না করে কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দেয়— প্রার্থী না হয়েও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ভেতরে? তাঁকে অবিলম্বে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে বের করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিতেই তিনি কেন্দ্র ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী আচরণবিধির ৪ নম্বর পরিচ্ছেদ অনুযায়ী, বৈধ প্রবেশপত্র ছাড়া কাউন্টিং হলের আশেপাশেও কারও থাকার এক্তিয়ার নেই। তা সত্ত্বেও কেন এই ‘দাদাগিরি’? প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির। অন্যদিকে, একই দিনে ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্রে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয় কমিশন। সব মিলিয়ে এবারের গণনায় শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘নিয়ম লঙ্ঘন’-এর হিড়িক চোখে পড়ার মত।

শুধুমাত্র কমিশনের নির্দেশই নয়, এদিন হেস্টিংসের বাইরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় অভিষেককে। তিনি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত জনতার একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনাকেন্দ্রে প্রার্থীর বদলে নেতার উপস্থিতি আসলে দলের ভেতরে তৈরি হওয়া এক ধরণের ‘অনিরাপদ’ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। নিয়ম ভেঙে ভেতরে ঢুকে কি গণনার ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছিল? কমিশনের কড়া পদক্ষেপে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় এখন মুখ পুড়ল শাসক শিবিরেরই।