প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে যদি আপনি তৃণমূল করেন, তাহলে আপনি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর থেকে শুরু করে তাদের কণ্ঠরোধ করতে সবকিছু করতে পারেন। আর পুলিশ চোখের সামনে সেই সমস্ত অভিযোগ এবং বক্তব্য দেখা সত্ত্বেও, আপনার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। কারণ আপনি তৃণমূল করেন, আর সেটাতেই আপনার সাত খুন মাফ। বিভিন্ন ঘটনায় যখন পুলিশা নিষ্ক্রিয়তা চোখে পড়ে, তখন এমনটাই অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। তবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের বিরুদ্ধেই যখন গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় না বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখতে পাওয়া যায় না, তখন তৃণমূলের বিধায়কের বিরুদ্ধে যদি কোনো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে যে তার বিরুদ্ধে আরোই পদক্ষেপ হবে না, সেই সম্পর্কে বিরোধীদের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সত্য কখনও চাপা থাকে না। তাই এবার এক স্বাস্থ্য আধিকারিককে ভয় দেখানোর অভিযোগে খবরের শিরোনামে উঠে এলেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাঝি।

ইতিমধ্যেই এই রাজ্যের বুকে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার নাম উঠে আসে। এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় বিতর্কে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাঝি। আর এবার আমতার এক স্বাস্থ্য আধিকারিককে ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন তিনি। যেখানে সেই স্বাস্থ্য অধিকারিক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাঝির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার কোনো সদুত্তর মেলেনি বলেই খবর। জানা গিয়েছে, রিভিউ মিটিং, ফিল্ড ভিজিট করতে সেই স্বাস্থ্য আধিকারিককে নিষেধ করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সেই স্বাস্থ্য আধিকারিককে ব্যক্তিগতভাবে চেম্বারে ডেকে পাঠিয়েছেন সেই তৃণমূল বিধায়ক বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আর এই ঘটনা সামনে আসার পরেই রাজ্যের শাসক দলের দিকে চোখা চোখা প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তো নিজেই স্বাস্থ্য দপ্তর দেখভাল করেন। তাহলে তার দপ্তরের মধ্যে এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের নিরাপত্তাই যেখানে সুনিশ্চিত নেই, সেখানে তিনি কবে পদক্ষেপ নেবেন? যেখানে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, সেখানে তো মুখ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন এবং সেই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বারবার এই রাজ্যের বুকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যারা কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর এবার তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধেই যখন এক স্বাস্থ্য আধিকারিককে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী যদি নীরবতা পালন করে থাকে বা তার দপ্তর যদি পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে যে, কারা এই ধরনের হুমকি এবং ভয় দেখানোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।