প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছেন যে, যেভাবে এসআইআর হচ্ছে, তাতে অবৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকায় আর রাখা যাবে না। এতদিন একের পর এক নির্বাচনে এই অবৈধ ভোটারদের কাজে লাগিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় টিকে থেকেছে বলেই দাবি করে বিরোধীরা। তাই এসআইআর প্রক্রিয়া সবাই স্বাগত জানালেও তৃণমূল একমাত্র তার বিরোধিতা করছে বলে সোচ্চার হচ্ছে বিজেপি। আর এসবের মধ্যেই আজ সুপ্রিম কোর্টে সেই এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে যে কান্নাকাটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শুরু করে দিলেন, যেভাবে তারা নিজেদের যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত যে কথা বলে দিলো, তাতে অবৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকায় রাখার যে কোনো সুযোগই আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দলের কাছে থাকলো না, তা এক কথায় স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বলা বাহুল্য, এর আগের দিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় নিজে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌। তার আইনজীবী থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে একের পর এক কথা বলতে শুরু করেছিলেন। যদিও বা তা নিয়ে বিরোধীদের পক্ষ থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু আজ সেই মামলার শুনানিতে কি হয়, তার দিকে সকলের নজর ছিলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগের দিন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচুর মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। আর আজ গণহারে যেন মানুষের নাম বাদ দেওয়া না হয়, তার জন্য আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে গোটা বিষয়টি বলতে শুরু করেন তারা আইনজীবী। এমনকি নামের বানান গরমের ক্ষেত্রে ভোটারদের যাতে বাদ দেওয়া না হয়, তার জন্য কমিশনকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিন বলেও সওয়াল করতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে মান্যতা দিলো না দেশের শীর্ষ আদালত।

সূত্রের খবর, এদিন সুপ্রিম কোর্টের এসআইআর মামলার শুনানিতে প্রচুর ভোটারদের নাম যাতে না দেওয়া হয়, তার জন্য নিজেদের যুক্তি তুলে ধরতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। তিনি বলেন, “নামের বানানে গরমিলের ক্ষেত্রে ডিফল্ট অবস্থান হওয়া উচিত। এই ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। কমিশনকে এমন নির্দেশ দেওয়া হোক। ১৪ই ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। তারপর আর আবেদন করার সুযোগ থাকবে না। তারপরেই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। আমাদের একটাই উদ্বেগ, গণহারে যেন ভোটারদের না বাদ দেওয়া হয়।” কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর এই যুক্তি সেই ভাবে মান্যতা পায়নি শীর্ষ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই ধরনের কোনো নির্দেশ তারা এই মুহূর্তে দেবেন না। আর এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহু চেষ্টা তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন, যাতে নিজেদের আইনজীবীদের দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটা নির্দেশ নিয়ে এসে ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ ভোটারদের নাম যাতে তারা রাখতে পারেন। কিন্তু তাদের কোনো কৌশলই যে আর কাজ করছে না, আজ আরও একবার তা প্রমাণ হয়ে গেল। যার ফলে আদালতে বহু কান্নাকাটি করার পরেও ধোপে টিকলো না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।