প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতবর্ষের আরও একাধিক রাজ্যে এসআইআর হয়েছে। কিন্তু এই এসআইআর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যে অশান্তির খবর এবং যে অভাব অভিযোগ এসেছে, তা ভারতবর্ষের আর অন্য কোনো রাজ্য থেকে আসতে দেখা যায়নি। এমন অনেক রাজ্যে এসআইআর হয়েছে, যেখানে বিজেপি বিরোধী সরকার রয়েছে। কিন্তু সেখানকার শাসক দল এত এসআইআরের বিরুদ্ধে হট্টগোল করেনি, যা এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস করেছে। তাই বারবার করে এসআইআরকে ভন্ডুল করার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। এমনকি বিজেপির রাজ্য সভাপতি নিজে একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন যে, যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চলছে এবং যেভাবে তাদের ফর্ম সেভেন বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাজ্যে আসা উচিত। অবশেষে আজ রাতেই সেই জ্ঞানেশ কুমার সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন এটাই যে, ভোট কবে ঘোষণা হবে? দিনের পর দিন চলে যাচ্ছে। কিন্তু ভোট ঘোষণার কোনো নাম গন্ধ বুঝতে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই একটা চর্চা তৈরি হয়েছে, তাহলে কি পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? রাষ্ট্রপতি শাসন করেই কি পশ্চিমবঙ্গে হতে চলেছে নির্বাচন? ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল বদল হয়েছে। এমনকি গতকাল রাষ্ট্রপতি নিজে রাজ্যে একটি কর্মসূচিতে এসে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। আর এই সমস্ত বিষয় সামনে আসার পরে আরও বেশি করে মনে করা হচ্ছে যে, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেই হয়ত নির্বাচন হতে পারে। তবে কি হবে, তা সময় বলবে। কিন্তু এসআইআর হয়ে যাওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। ফলে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে আর কোনো বাধা নেই। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আগামীকাল এবং তার পরের দিন নির্বাচন কমিশন এর ফুল বেঞ্চ যে বৈঠক রাজ্যে এসে করতে চলেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে সকলের কাছে।
সূত্রের খবর, আজ রাতেই অবশেষে রাজ্যে আসতে চলেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। যেখানে তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসবেন। আর আগামীকাল এবং তারপর দিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে তাদের। যেখানে বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি সিইও দপ্তরের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের এই ফুল বেঞ্চের। স্বাভাবিকভাবেই ফুল বেঞ্চ বৈঠক করে যাওয়ার পরেই নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা। এখন ভোট ঘোষণার আগে রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ এসে কি সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাদের কাছ থেকে ভোট ঘোষণা কবে হবে সেই রকম কোনো আভাস পাওয়া যায় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্যবাসী।