প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতার একটা বিষয়ে ভীষণ আফসোস ছিলো যে, নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকা সত্ত্বেও কেন তারা অনিয়ম যে সমস্ত আধিকারিকরা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না? কেন তাদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে না? সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে কমিশনও দেখছিলো যে, কতদূর যেতে পারে এই আধিকারিকরা। অবশেষে গতকালই খবর আসে যে, রাজ্যের সাতজন এইআরওকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। আর গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই প্রথম নির্বাচন কমিশন নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে সাসপেন্ড করায় অত্যন্ত খুশি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে চলছে। তবে প্রথম দিন থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি আধিকারিকদের দিয়ে তারা যে ভুয়ো ডকুমেন্ট নিয়ে অবৈধ ভোটারদের নাম রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছে, সেই খবরও রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কাছে ছিলো। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে সোচ্চার হয়েছিলেন। এমনকি বারবার করে তিনি বলছিলেন যে, নির্বাচন কমিশনের পুরোপুরি ক্ষমতা আছে, এই সমস্ত বেআইনি কাজ করা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। ফলে তারা কেন নিচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে গতকাল নির্বাচন কমিশন দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করবে না। রাজ্যের ৭ জন এইআরওকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমনকি ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকেও চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই বিষয়টি নিয়েই এবার সন্তোষজনক হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন দিল্লি যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর সেখানেই তিনি বলেন, “এই প্রথম সরাসরি সাসপেন্ড হয়েছে। যেটা ইলেকশন কমিশনের আইনে থাকা সত্ত্বেও ইলেকশন কমিশন তারা এতদিন মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন। তবে এটা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রথম নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এরপর চাইলে এফআইআরও করতে পারে। আর যারা সাসপেন্ড হলেন, তাদের খুব বৈধ, উপযুক্ত কারণেই করা হয়েছে। এরা ভুয়ো তথ্য গ্রহণ করেছিলেন। এরা ডিএমদের চাপে করেছেন, আর নন্দিনী চক্রবর্তীর ইশারাতে। আর নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিয়ে এই গোটা প্রক্রিয়াটা চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”