প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ঠিক এটাই আশা করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে। যখন চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের একজন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি প্রশাসনিক পদকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেখানে তল্লাশি চালাচ্ছে, সেখানে পৌঁছে যাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে রয়েছেন একাধিক পুলিশকর্তা, তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নথিপত্র নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন, তারপরেও কেন সেই মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তার সঙ্গে যে সমস্ত প্রশাসনিক কর্তারা ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হবে না? এই প্রশ্ন রাজ্যবাসীর মধ্যে ছিলো‌। আজ সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। সেখানে আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে। তবে তার আগেই যে পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে নিলো, তাতে কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে রীতিমত ভয় এবং আতঙ্ক মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। ইডির আবেদনের প্ররিপ্রেক্ষিতে যদি সুপ্রিম কোর্ট এতে সাড়া দিয়ে দেয়, তাহলে কি হবে রাজীব কুমারের ভবিষ্যৎ? কি হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যে সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকরা সেদিন আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি চালানোর সময় সেখানে চলে গিয়েছিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ?

এই রাজ্যের ডিজি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই অনেকের নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি দলদাসের মত কাজ করছেন, তিনি তৃণমূল সরকারের হয়ে কাজ করছেন, তিনি পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরণ করছেন। এইরকম অনেক অভিযোগ বিরোধীদের মধ্যে থেকে উঠেছে। তবে সম্প্রতি তিনি যে কান্ড ঘটিয়েছেন, তা সমস্ত সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে বলেই দাবি করেছিল বিরোধীরা। যেখানে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি যখন চলছে, তখন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন এই রাজীব কুমার সহ বেশ কিছু প্রশাসনিক কর্তা। তারা ভেবেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি রাখলেই বুঝি তারা ঠিক থাকবেন। কিন্তু দেশে আইন আদালত বলে এখনও কিছু অবশিষ্ট রয়েছে। তাই আজ যখন সুপ্রিম কোর্টে এই আইপ্যাক মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, ঠিক তার আগেই রাজ্যের ডিজি রাজীব কুমারের সাসপেনশন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে একটি আবেদন করলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তবে শুধু রাজীব কুমার নয়, আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর দিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজীব কুমার সহ আরও যে সমস্ত প্রশাসনিক কর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের সকলের বিরুদ্ধেও যাতে শাস্তি গ্রহণ করা হয়, তার জন্যও শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে যদি এই ব্যাপারে কোনো নির্দেশ না দেওয়া হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার বা তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না‌। তাই সেক্ষেত্রে একেবারে আদালত থেকেই পাকাপাকি নির্দেশ নিয়ে আসতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যাতে এই রাজ্যের সরকার বা তৃণমূল কংগ্রেস কিছু বলতে না পারে। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির এই যে পদক্ষেপ, তা যে অত্যন্ত সাধুবাদযোগ্য, সেই সম্পর্কে কারো মধ্যেই কোনো দ্বিমত নেই। এখন আদালতের দরজাতেই গোটা বিষয়টি রয়েছে। আদালত যদি ইডির এই বক্তব্যে সায় দিয়ে সবুজ সংকেত দিয়ে দেয়, তাহলে রাজীব কুমার থেকে শুরু করে প্রশাসনের যে সমস্ত আধিকারিকরা সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেখানে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন, তাদের জন্য যে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে, সেই সম্পর্কে দ্বিমত নেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। পাশাপাশি এই রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে যে সমস্ত পুলিশ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা এখনো দলদাসের মত আচরণ করছেন, ইডির এই আবেদনে সাড়া দিয়ে যদি শীর্ষ আদালত কড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা জানিয়ে দেয়, তাহলে সেই সমস্ত দলদাসের মত ভূমিকা পালন করা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও সমঝে যাবেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।