প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবার বুঝতে পারছেন যে, নির্বাচনটা কতটা কঠিন। এতদিন যেভাবেই হোক, ম্যানেজ করে নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করে ভোটের ময়দানে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু এবার ২০২৬ এর নির্বাচন যে অত্যন্ত কঠিন নির্বাচন এবং এখানে নির্বাচন কমিশনকে যে ম্যানেজ করা সম্ভব নয়, তা বুঝেই প্রথমে আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছিলেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কথায় কথায় নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। আর ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর যেভাবে নির্বাচন কমিশন একের পর এক প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদল করতে শুরু করেছে, তাতে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই আবারও দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন তিনি।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে লাগাতার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই চিঠিকে কোনোমতেই গুরুত্ব দেয়নি। ইতিমধ্যেই ভোটের ঘোষণা হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। আর তারপরেই দলদাস প্রশাসনের আধিকারিকদের দিয়ে যাতে ভোট পরিচালনা না হয়, তার জন্য কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। যেখানে রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রসচিব, এমনকি ডিজি থেকে শুরু করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদেও বদল আনা হয়েছে। যেখানে রাজ্যের কাছে নাম না চেয়ে নিজে থেকেই কাদের এই পদে বসাতে হবে, তার তালিকা দিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এতেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেই যেভাবে নির্বাচন কমিশন একের পর এক প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদল করেছে, তার বিরুদ্ধে এবার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের কাছে তালিকা না চেয়ে যেভাবে নিজে থেকেই কমিশনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত পদে আধিকারিকদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। এমনকি এই ঘটনা ঐতিহ্যের বিরোধী বলেও দাবি করেছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের কড়া সিদ্ধান্তে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রীতিমত চোখে সর্ষে ফুল দেখতে শুরু করেছেন, সেই সম্পর্কে দ্বিমত নেই বিরোধীদের মধ্যে।