প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- একসময় বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য ছিলেন তিনি। আজ সেই মুকুল রায় চলে গিয়েছেন। আর তার প্রয়াণের পর রীতিমত শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। বর্ণময় রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে মুকুল রায়ের ক্যারিশমার কথা স্মরণ করছেন সকলেই। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২০১৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন মুকুল রায়। তারপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বুঝিয়ে দেন যে, খেলা কিভাবে ঘোরাতে হয়। কার্যত রাজ্য রাজনীতিতে একটা বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মুকুল রায় যেখানে, জয় সেখানে। কিন্তু পরবর্তীতে আবার ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপি টিকিটে জিতলেও তৃণমূলে ফিরে যান মুকুল রায়। এরপর কার্যত অন্তরালে চলে যান তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন মুকুল রায়। আর গতকাল তার প্রয়াণ হয়েছে। সকলেই রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে শোকবার্তা জ্ঞাপন করছেন। আর সেই সময়ই মুকুল রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এক সময় তৃণমূলে তাকে জোর করে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে বড় মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ হলেও, কৌশলের অন্যতম কারিগর ছিলেন মুকুল রায়। এটা সকলেই স্বীকার করে নেন। এমনকি আজকের দিনে তৃণমূলের সকলেই স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, মুকুল রায় কতটা দক্ষ সংগঠক ছিলেন। তবে যে মুকুল রায় ২০১৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে এসে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সব রকম চেষ্টা করেছিলেন, কেউ ভাবতে পারেননি, তারপর সেই মুকুল রায় আবার তার পুরনো দলে ফিরে যাবেন। অন্তত মুকুল রায়ের রাজনৈতিক চরিত্র যে এটা নয়, সেটা সকলেই জানতেন। কিন্তু সকলের সেই ধারণাকে ভুল করে দিয়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে গেলেও সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে দেখা যায়নি মুকুল রায়কে। শারীরিক অসুস্থতার জেরে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। অবশেষে গতকাল তার প্রয়াণ হয়েছে। তবে এক সময় বিজেপিতে গিয়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে মুকুল রায়ের এই ফেরাটাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক হিসেবে নিচ্ছেন না রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি। অতীতের কথা উল্লেখ করে তার বক্তব্য, মুকুল রায়কে তৃণমূলে ফেরার ক্ষেত্রে বাধ্য করা হয়েছিল। যা আজকের দিনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সকলে।
এদিন মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর পেয়েই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহল। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা শোকবার্তা জ্ঞাপন করছেন। আর তার মাঝেই প্রয়াত মুকুল রায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মুকুল রায় খুব বড় মাপের সংগঠক ছিলেন। পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় কার্যত মুকুল রায়কে বাধ্য করা হয়েছিল, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে। তার এই পরিণতি কারও কাম্য ছিল না। দীর্ঘদিন অসুস্থতার মধ্যে ছিলেন। তাঁর থেকে উনি মুক্তি পেয়েছেন। আজকের দিনে আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”