প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
দেশের নির্বাচন কমিশন একদম সঠিক জায়গায় হাত দিয়েছে। তারা যেভাবে কাজ করছে, তাতে এবার রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন অবৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকায় রেখে তিনি একের পর এক নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও, এবার তিনি বুঝতে পারছেন যে, আর এমনটা করা যাবে না। তাই নির্বাচন কমিশন এফআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা অবলম্বন করার পাশাপাশি যেভাবে কাজ করছে, তাতে গাত্রদাহ হচ্ছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। তাই তিনি প্রথম দিন থেকেই এসআইআরের বিরোধিতা করার পাশাপাশি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ব্যক্তিগতভাবেও আক্রমণ করতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। আজ আবারও নবান্ন থেকে সেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করেছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পাল্টা জবাব দিয়ে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে ৩০ এপ্রিলের পর প্রাক্তন হচ্ছেন, তা উল্লেখ করে তার বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এই রাজ্যে কিভাবে প্রত্যেকটি ভোটে অবৈধ ভোটারদের কাজে লাগিয়ে মৃত ভোটারদের কাজে লাগিয়ে এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের কাজে লাগিয়ে জিতে এসেছে তৃণমূল, তা খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছে বিজেপি। তাই এসআইআর প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। তবে প্রথম দিন থেকেই এসআইআরের মত এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করতে শুরু করেছিলো তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তাদের ভয়টা কোথায়? যত সময় যাচ্ছে, যত নির্বাচন কমিশন এই রাজ্যের প্রশাসন যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় চলে ভুয়ো তথ্য দিয়ে অবৈধ ভোটারদের রেখে দিতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন, ততই আতঙ্ক বাড়ছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে। তিনি বুঝতে পারছেন যে, এবার আর ক্ষমতায় ফেরা যাবে না। আর সেই কারণে যত পারছেন, ততই ভয় দেখানো থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছেন তিনি‌। আজ আবারও দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নবান্ন থেকে আক্রমণ করেছেন তিনি। আর তারই পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন ময়নায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর সেখানেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ভাবছেন, ওনার চেয়ারটা পার্মানেন্টে নাকি? উনি তো ৩০ এপ্রিলের পর আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, তারা ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী। তাই কোনো রকম কুণ্ঠাবোধ না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও ঝাঁঝালো আক্রমণ করে দেশের নির্বাচন কমিশনকে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণ করছেন, তার পাল্টা জবাব দিয়ে তার বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।