প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালিমালিপ্ত করতে এবং সস্তার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিরোধীরা এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দরবারে হাজির হতে চলেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ১০ জন বিরোধী সাংসদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছেন। ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এ কারচুপির এক কাল্পনিক অভিযোগ তুলে বিগত কয়েকদিন ধরে দেশের রাজধানীতে যে বেনজির নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুক্রবারের এই রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎ তারই নতুন একটি ‘পাব্লিসিটি স্টান্ট’।
গত মঙ্গলবার ও বুধবার দিল্লির রাজপথে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাদের নেতৃত্বে যেভাবে ব্যারিকেডে চড়ে বসা, রাস্তায় শুয়ে পড়া কিংবা রাষ্ট্রীয় ভবন অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। বিশ্লেষকদের বড় অংশের প্রশ্ন—যেখানে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয়, সেখানে আইনি লড়াইয়ের বদলে দিল্লির রাজপথ অচল করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা কোন ধরনের রাজনীতি? সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই একে ‘ইভিএম হ্যাক’ তত্ত্বের পর বিরোধীদের নতুন এক অজুহাত বলে কটাক্ষ করছেন।
বিরোধী শিবিরের এই অতি-সক্রিয়তাকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেছে শাসক দল বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আগাম অজুহাত তৈরি করতেই বিরোধীরা এখন থেকেই দেশের নির্বাচন কমিশনের মতো এক স্বশাসিত সংস্থাকে আক্রমণ করছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশও মনে করছেন, একের পর এক নির্বাচনে জনগণের রায়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে দেশে এক ধরণের অরাজকতা বা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা।
এদিকে বিরোধীদের এই মেগা ড্রামাকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে আইনি নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। বিরোধীদের তোলা ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শুক্রবার রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে ১০ জন বিরোধী সাংসদ কী স্মারকলিপি দেন, সেটাই এখন দেখার। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা রাষ্ট্রপতির দরবারে গিয়ে নালিশ ঠুকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের ভরসা কমানোর এই কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে বিরোধীদের জন্যই।