প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার পার্ক স্ট্রিট এলাকায় ফুটপাথ দখলমুক্ত করার প্রশাসনিক অভিযানকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ফুটপাথ সাফ করার নিয়ম বনাম মানবিকতার লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি অবস্থান নিলেন রাজ্যের বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা কালীঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে প্রকাশ্য পোস্ট-যুদ্ধ শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কলকাতা পুরসভার বর্তমান নীতি অনুযায়ী শহরের ফুটপাথগুলি সাধারণ মানুষের হাঁটার যোগ্য করে তুলতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিট এলাকার ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে যান রাজ্যের বর্তমান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ফুটপাথ দিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করতে তিনি হকারদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেন। ঠিক সেই সময়েই দেখা যায়, ফুটপাথের ওপর বসে এক অসহায় মহিলা তাঁর শিশুর জন্য দুধ গরম করছিলেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিয়ম অনুযায়ী ফুটপাথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দিয়ে তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

পুরমন্ত্রীর এই কড়া অভিযানের ঠিক পরেই ময়দানে নামেন তৃণমূলের কালীঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে সেই অসহায় মহিলার দুধ গরম করার ছবি পোস্ট করে প্রশাসনের কড়া মনোভাবের বিরুদ্ধে সরব হন। কুণাল ঘোষ নিজে সরাসরি পার্ক স্ট্রিটের সেই নির্দিষ্ট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তিনি ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দেন। এরপরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি স্পষ্ট জানান, “ফুটপাথ সাফ থাকুক, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হোক, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু মানবিক মুখ সরিয়ে নিয়ে নয়।” তিনি পরোক্ষভাবে পুর দফতরকে হকার পুনর্বাসন নীতি মেনে মানবিক হওয়ার আর্জি জানান।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন বিজেপি সরকার কলকাতার ফুটপাথ এবং রাস্তা দখলমুক্ত করতে প্রথম থেকেই অত্যন্ত কড়া নীতি নিয়েছে। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে কলকাতা পুরনিগম (KMC) শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিরোধী দল তৃণমূলের তরফ থেকে কুণাল ঘোষের এই পাল্টা চাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কুণাল ঘোষ বোঝাতে চেয়েছেন যে, শহর সাফাইয়ের নামে গরিব মানুষের রুটিরুজি বা বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নেওয়াকে তাঁরা কোনোভাবেই সমর্থন করবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে পুর প্রশাসন বনাম বিরোধী শিবিরের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে।