প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তৃণমূলের অন্দরে ‘টিকিট কেনাবেচার যে কানাঘুষো দীর্ঘদিনের, এবার তাতে সিলমোহর দিলেন খোদ শাসক দলেরই এক প্রবীণ বিধায়ক। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক দাবি, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে গেলে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাককে দিতে হবে ২০ লক্ষ টাকা। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি তুলে সরাসরি মমতার সাধের ‘পেশাদার টিম’-এর দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। তপন চট্টোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন, “আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা আমার কাছে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম, মানুষের কাজ করি, টাকা দিয়ে টিকিট কেনার সামর্থ্য নেই। টাকা দিতে পারিনি বলেই আজ আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মীকে সরিয়ে সেখানে বাম আমলের প্রয়াত মন্ত্রীর কন্যাকে প্রার্থী করায় তৃণমূলের ‘আদি বনাম নব্য’ লড়াই এখন রাস্তার মোড়ে মোড়ে চর্চার বিষয়। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার তপনবাবুর পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। অভিমানে বিধায়ক নিজের কার্যালয়ের বোর্ডে নিজেই ‘প্রাক্তন’ লিখে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন—তৃণমূলের এই ‘কর্পোরেট সংস্কৃতির’ সাথে তিনি আর নেই।
তপন চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর হাত গুটিয়ে বসে নেই বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে রাজ্য নেতৃত্ব এই বিষয়টিকে বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে। বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, “আমরা তো অনেকদিন ধরেই বলছি, তৃণমূল এখন আর রাজনৈতিক দল নেই, এটা একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। পিসি আর ভাইপো মিলে পিকের টিমের মাধ্যমে টিকিট নিলাম করছেন। ২০ লক্ষ টাকার এই দর আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। যারা কোটি কোটি টাকা কামাতে পারবে, তাদেরই পিকের টিম পাস সার্টিফিকেট দিচ্ছে। বাংলার মানুষের টাকা লুট করাই এদের একমাত্র লক্ষ্য।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূল নেত্রী বরাবরই নিজেকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে বলে দাবি করেন। কিন্তু একজন সিটিং এমএলএ যখন সরাসরি ‘মানি ট্রেইল’-এর অভিযোগ তোলেন, তখন সেই ‘সততা’র ইমেজ তলানিতে গিয়ে ঠেকে। পূর্বস্থলী উত্তরে তপনবাবুর নিজস্ব একটা জনভিত্তি আছে। তাঁর মত পুরোনো ঘোড়াকে সরিয়ে দেওয়ায় কর্মীরা চরম হতাশ। এই বিদ্রোহ কেবল এক জায়গায় থমকে থাকবে না, বরং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য বিক্ষুব্ধ নেতাদের অক্সিজেন জোগাবে। নিরাপত্তা কেড়ে নিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা আদতে বুমেরাং হতে পারে। মানুষ একে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ হিসেবেই দেখছে। পঞ্চায়েত ভোটের পর এবার বিধানসভা ভোটেও টিকিট বিক্রির এই কেলেঙ্কারি ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন তপন চট্টোপাধ্যায়ের ২০ লক্ষ টাকার এই ‘রেটচার্ট’ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের জন্য ঘর সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইপ্যাকের মত সংস্থাকে সামনে রেখে আসলে কারা এই তোলাবাজি চালাচ্ছে, তা নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন দানা বাঁধছে। বিজেপির এই ‘দুর্নীতি’র প্রচার আসন্ন নির্বাচনে ঘাসফুলের শিকড় কতটা আলগা করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।