প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক এবং যন্তর মন্তরের গণ-আন্দোলন থামাতে এবার নজিরবিহীনভাবে ‘রিলস’ কূটনীতির আশ্রয় নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর, শুক্রবার রাতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মাত্র ৪০ সেকেন্ডের একটি নতুন ফলো-আপ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন তিনি। যেখানে আন্দোলন বা ক্ষোভের সরাসরি কোনো উল্লেখ না করে, আগের ভিডিওতে ছাত্র ও যুবসমাজের সাড়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই আলোচনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক “আরও সুদৃঢ় ও সক্রিয় হবে”। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রীর এই জোড়া ডিজিটাল জনসংযোগকে স্রেফ ‘আইওয়াশ’ বা নজর ঘোরানোর চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।

শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “নমস্কার তরুণ বন্ধুরা! গতকাল রাতে আপনাদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ হয়েছিল। আপনারা যেভাবে সেই ভিডিওটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের এই ভালোবাসা বজায় থাকবে এবং আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সক্রিয় হবে”। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশজুড়ে তরুণ ভোটারদের (Gen-Z) পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই প্রধানমন্ত্রী এই ব্যাক-টু-ব্যাক ভিডিও বার্তা দিয়ে সরাসরি সংযোগ তৈরির কৌশল নিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেছিল CJP-র প্রতিনিধি দল। তবে সেই বৈঠকের পর এবং প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বার্তার জবাবে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের সাফ বক্তব্য, সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত বা নতুন বিল আনার কথা বলে মূল বিষয় থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে। CJP স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— ভিডিও বার্তা বা ফাঁপা আশ্বাসে আন্দোলন থামবে না; নিট কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিতে তারা এখনও অনড় এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ জারি থাকবে।

বৃহস্পতিবারের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী যে কঠোরতম আইনের খসড়া ক্যাবিনেটে চূড়ান্ত করার কথা বলেছিলেন, শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই বিল পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। কিন্তু সংসদের ভেতরে বিরোধী দল এবং বাইরে CJP-র সাঁড়াশি চাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে এড়িয়ে সরকার কীভাবে এই ক্ষোভ সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার।