প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- আরজিকর কাণ্ডের বিচার চেয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখলেন নির্যাতিতা চিকিৎসকের (তিলোত্তমা/অভয়া) বাবা ও মা। সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, নির্যাতিতার পরিবার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি খোলসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তাঁরা আমাদের দলের প্রাথমিক সদস্য হয়েছেন। তবে প্রার্থী করার বিষয়ে আমাদের রাজ্য শাখা এই বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিলেও, চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বিজেপি ইতিমধ্যে প্রার্থীদের দুটি তালিকা প্রকাশ করলেও পানিহাটি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। অর্থাৎ, নির্যাতিতার মা প্রার্থী হবেন কি না, তা এখন পুরোপুরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজিকর হাসপাতালে সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকে গোটা রাজ্য উত্তাল হয়েছিল। নির্যাতিতার পরিবার প্রথম থেকেই সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন। গত ২০ মার্চ তাঁরা প্রথমবার প্রকাশ্যে জানান যে, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং নারী সুরক্ষায় সোচ্চার হতে তাঁরা রাজনীতিতে নামছেন। অবশেষে শুভেন্দু বাবু সোমবার দিন নিজেই জানিয়ে দিলেন যে অভয়ার বাবা এবং মা দুজনেই বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ নিয়েছেন। কিন্তু
কেন বিজেপিকেই বেছে নিলেন তাঁরা?
নির্যাতিতার মা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের বিচার পাওয়ার লড়াইকে রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনসভার অভ্যন্তরে নিয়ে যেতেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, “মেয়ের বিচারের জন্য আমরা দরজায় দরজায় ঘুরেছি। এখন মনে হচ্ছে ক্ষমতার ভেতরে না থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা বা বড় কোনো অন্যায়ের বিচার পাওয়া কঠিন।” রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বর্তমান শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে নির্যাতিতার পরিবারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পানিহাটির মত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে যদি নির্যাতিতার মা প্রার্থী হন, তবে তা শাসক দল তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, ‘তিলোত্তমা’-র পরিবারের এই লড়াই সাধারণ মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত, যা ব্যালট বক্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এটি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিবাদী বার্তা।
এখন সবার নজর দিল্লির দিকে। শুভেন্দু অধিকারী বল ঠেলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোর্টে। পানিহাটি কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে কি শেষ পর্যন্ত নির্যাতিতার মায়ের নামই ঘোষিত হবে? নাকি কেবল দলের হয়ে প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকবেন তাঁরা? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বিজেপির পরবর্তী প্রার্থী তালিকায়। তবে অভয়ার বাবা-মায়ের বিজেপিতে যোগদানের খবরের পর এটুকু স্পষ্ট যে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে আরজিকর ইস্যু এবং বিচার পাওয়ার লড়াই ফের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলো।