প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সকালে কাঁথির নন্দনায়কবাড়ি এলাকার বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়েই তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আসছে।”

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের মহোৎসবে এখনও পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে। খুব ছোটখাট কিছু ঘটনা ঘটেছে। মোটের ওপর আগের চেয়ে অনেক ভালো ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন।” উল্লেখ্য, এবারের প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রায় ২,৪৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বিরোধী দলনেতার কেন্দ্র নন্দীগ্রাম বরাবরই সংবেদনশীল। এদিনের ভোট চলাকালীন সেখানে একটি বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর পাওয়া গেলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “আমাদের নন্দীগ্রামেও একটা ঘটনা ঘটেছিল, দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি অবাধ ভোটদানে সহায়ক হচ্ছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বরাবরই শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার গড় ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৯০.৪ শতাংশ, যা রাজ্যের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
গত নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম আসনেই শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।

এবারের নির্বাচনে এই জেলা থেকে ফের বড় লিড পাওয়ার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছে বিজেপি। প্রথম কয়েক ঘণ্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন বুথে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ৩.৬০ কোটি ভোটারের এই প্রথম দফার লড়াইয়ে শুভেন্দুর “পরিবর্তন আসছে” মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য নিছক রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এক কৌশল। কমিশনের সক্রিয়তা এবং নন্দীগ্রামে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তিনি শাসক দলের ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি করেছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।