প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই কার্যত বারুদের স্তূপে পরিণত হলো বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র। রবিবার থেকে পর্ণশ্রী এলাকায় যা ঘটল, তা সাম্প্রতিক নির্বাচনী হিংসার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়। বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর থেকে শুরু করে খোদ তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে (Ratna Chatterjee) ঘিরে পর্ণশ্রী থানার সামনে চলল চরম নাটকীয়তা। উঠল ‘চোর’ স্লোগান, ভাঙল পুলিশের মজবুত ব্যারিকেড!

ঘটনার সূত্রপাত ৫ এপ্রিল (রবিবার) দুপুরে। পর্ণশ্রী এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির একটি প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী চড়াও হয় বলে অভিযোগ। বিজেপি প্রার্থী ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ-র (Dr. Indranil Khan) দাবি, তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সরাসরি উস্কানিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বিকেল থেকেই পর্ণশ্রী থানার সামনে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা অবস্থান বিক্ষোভে বসেন।

এরপরই পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়, যখন রত্না চট্টোপাধ্যায় পর্ণশ্রী থানায় পৌঁছান, তখন সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন কয়েকশো উত্তেজিত বিজেপি কর্মী। রত্নাদেবীর গাড়ি থানার গেটে পৌঁছানো মাত্রই ‘চোর-চোর’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, বেহালা পশ্চিমকে ‘সন্ত্রাসের আখড়া’ বানাতে চাইছেন তৃণমূল প্রার্থী। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে ধেয়ে এল বিক্ষোভকারীরা। উত্তেজিত জনতাকে সামলাতে পুলিশ লোহার বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষোভের তেজ এতটাই ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে সেই ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা তৃণমূল প্রার্থীর গাড়ির দিকে ধেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে আক্ষরিক অর্থেই হিমশিম খেতে হয়। বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী পুলিশের লাঠির ঘায়ে জখম হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও জমায়েত করলে দু’পক্ষের বচসায় এলাকা থমথমে হয়ে পড়ে।

এই নজিরবিহীন অশান্তির খবর পৌঁছানো মাত্রই নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কমিশন সোমবার সকালেই রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে পর্ণশ্রী থানাকে। কমিশনের এই পদক্ষেপে কার্যত ব্যাকফুটে ঘাসফুল শিবির।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন গুণ্ডামির পথ বেছে নিয়েছে। খোদ প্রার্থীর উপস্থিতিতে আমাদের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে, আমরা শেষ দেখে ছাড়ব।” অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করছে, “বিজেপি পায়ের তলার মাটি হারিয়ে এখন নাটক করছে। কমিশনের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করে প্রচার থেকে আটকানোর ষড়যন্ত্র চলছে। মানুষ এর জবাব দেবেন”।

২০২১-এ রত্না চট্টোপাধ্যায় বেহালা পূর্ব থেকে জিতলেও, ২০২৬-এ তাঁকে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ফলে এই কেন্দ্রটি এবার প্রেস্টিজ ফাইট-এ পরিণত হয়েছে। এদিনের ঘটনার পর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু হয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে।