প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটের বাদ্যি বাজতেই বাংলায় যা হওয়ার ছিল, ঠিক তাই শুরু হলো। তবে এবার আর বিরোধী দলের ওপর নয়, খোদ নিজেদের লোকেদের ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ল শাসকদলের ‘বাহিনী’। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে ঊষারানি মণ্ডলের নাম ঘোষণা হতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিলো এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে, শেষমেশ নিজেদের দলেরই কর্মীদের ঠাঁই হলো হাসপাতালের বেডে। কিন্তু ঠিক কি ঘটনা ঘটেছিলো?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ক্যানসার বাসা বেঁধেছে, মিনাখাঁর ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। স্থানীয় সূত্রে খবর, হাড়োয়া ২ নম্বর ব্লকের সভাপতির সঙ্গে বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থীর অনুগামীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াই চলছিল। কিন্তু প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরই সেই জমাট বাঁধা ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মত ফেটে পড়ে। বচসা থেকে শুরু হয় বাঁশ আর লাঠির লড়াই। খোদ নিজের দলের কর্মীদের রক্তে মাটি লাল হতে দেখে এলাকায় রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বর্তমানে দুই তৃণমূল কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ইতিমধ্যেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “তৃণমূল দলটা এখন একটা সার্কাসে পরিণত হয়েছে। মানুষের সেবা নয়, কে কতটা তোলাবাজি করবে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে এই লড়াই। যারা নিজেদের কর্মীদেরই নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা মিনাখাঁর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেবে কী করে?” বিজেপি জেলা নেতৃত্বের দাবি, টিকিট না পেয়েই এই অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ এই ‘রক্তের রাজনীতি’ থেকে মুক্তি চাইছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থী তালিকায় যে পরিবর্তন বা স্থিতাবস্থা আনছেন, তা নিচুতলার অনেক নেতা মেনে নিতে পারছেন না। মিনাখাঁয় ঊষারানি মণ্ডলের বিরোধিতা দলের অন্দরেই যে কতটা তীব্র, তা হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা কর্মীদের আর্তনাদই প্রমাণ করে দিচ্ছে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভোটের বাক্সে পদ্ম শিবিরকে বড়সড় মাইলেজ দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ-প্রশাসন কি আদৌ নিরপেক্ষ ভূমিকা নেবে? নাকি বরাবরের মত এবারও ‘ঘরুয়া বিবাদ’ বলে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হবে? উত্তরের অপেক্ষায় মিনাখাঁ তথা গোটা বাংলার মানুষ।