প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আসন্ন নির্বাচনে জয় সুনিশ্চিত করতে বিজেপি যখন এককাট্টা, তখন প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের একাংশের আবেগ ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটল রাজ্য দপ্তরে। বেলেঘাটা সহ কয়েকটি কেন্দ্রের প্রার্থী চয়ন নিয়ে কর্মীদের কিছু জিজ্ঞাসা ও মতামত জানাতে তাঁরা সল্টলেকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এই ঘটনাকে কোনোভাবেই ‘বিক্ষোভ’ হিসেবে দেখছে না বিজেপি নেতৃত্ব। বরং দলের প্রতি কর্মীদের গভীর মমতা এবং অধিকারবোধের নজির হিসেবেই একে বর্ণনা করা হচ্ছে।

বেলেঘাটা কেন্দ্রে পার্থ চৌধুরীর নাম ঘোষণার পর স্থানীয় কর্মীদের একাংশ তাঁদের বিশেষ কিছু মতামত নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিতে চান। বিশেষ করে, আন্দোলনের মাটি থেকে উঠে আসা লড়াইয়ের সাথীদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হন শহিদ বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার ও তাঁর অনুগামীরা। শহিদ পরিবারের এই আবেগ বিজেপির কাছে সর্বদা পরম শ্রদ্ধার। কর্মীদের আবেগকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়। অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তিনি কর্মীদের প্রতিটি কথা শোনেন। লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা একটি পরিবার। বড় পরিবারে সদস্যদের মধ্যে কখনও কখনও মান-অভিমান বা মতপার্থক্য হয়, যা আসলে ভালোবাসারই অন্য রূপ। আমাদের লক্ষ্য বিচ্যুতি ঘটেনি—লক্ষ্য একটাই, বাংলার উন্নয়ন।” রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও স্পষ্ট করেন যে, দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হয় এবং কর্মীদের প্রতিটি পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূলের মত দলে যেখানে সাধারণ কর্মীর কন্ঠরোধ করা হয়, সেখানে বিজেপির মত গণতান্ত্রিক কাঠামোতেই কর্মীরা সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজেদের কথা বলার সুযোগ পান। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে নিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা করলেও, নেতৃত্বের এই ইতিবাচক ও নমনীয় মনোভাব আসলে কর্মীদের মনোবল এবং দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্বাস, এই সাময়িক আলোচনা বা আবেগ প্রবণ মুহূর্তগুলো আসলে দলের প্রতি কর্মীদের অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। মোদীজির সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মত নেতৃত্বের সঠিক দিশা নির্দেশে খুব শীঘ্রই সমস্ত মান-অভিমান মিটিয়ে ‘পদ্ম’ চিহ্নে ভোট দিয়েই সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়বেন কর্মীরা।