প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে রবিবার বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোচবিহারের হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে তাঁর নিশানায় ছিল মালদহের মোথাবাড়ির সেই নজিরবিহীন ঘটনা, যা নিয়ে ইতিপূর্বেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে খোদ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়? ঠিক কী অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী?

গত ১ এপ্রিল মালদহের কালিয়াচক-২ ব্লকের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার কাজ চলাকালীন চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সূত্রের খবর, একদল বিক্ষোভকারী বিডিও অফিস ঘেরাও করে তিন মহিলা বিচারকসহ মোট সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা আটকে রাখে। এই ঘটনাকে ‘মহা জঙ্গলরাজ’ এবং ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এদিন কোচবিহারের মঞ্চ থেকে বলেন, “যেখানে বিচারকরাই সুরক্ষিত নন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করা হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কে দেবে? মোথাবাড়িতে বিচারকদের যেভাবে পণবন্দি করা হয়েছে, তাতে গোটা দেশ আজ শিউরে উঠছে।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনে বাংলা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানেরই সম্মান রক্ষিত হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, মোথাবাড়ির এই নক্কারজনক ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট) ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছে। আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA) ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন, যারা বিচারকদের ওপর চড়াও হওয়ার সাহস দেখিয়েছে, তারা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের প্রথম দিনেই ‘মোথাবাড়ি কাণ্ড’কে সামনে এনে মোদী বুঝিয়ে দিলেন, এবারের নির্বাচনে বিজেপি বাংলার আইন-শৃঙ্খলা এবং বিচারব্যবস্থার সম্মান পুনরুদ্ধারকেই প্রধান ইস্যু করতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।