প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এতদিন ভেবেছিলেন, তিনি যা করবেন, সেটাই বুঝি আইন। তিনি যে পথ দেখিয়ে দেবেন, সেই অনুযায়ীই বুঝি চলবে রাজ্য। কিন্তু সব অন্যায় আবদার যে চলবে না, তা অবশেষে দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আজ কলকাতা হাইকোর্টে যে সওয়াল চলেছে এবং যেভাবে তৃণমূলের মামলা কার্যত খারিজ হয়ে গিয়েছে, তাতে রাজ্যের শাসক দলের মুখ পুড়েছে। আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে। যার দিকে নজর রয়েছে গোটা রাজ্যবাসীর। সকলের একটাই বক্তব্য যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেখানে তল্লাশি চালাচ্ছে, সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের মত করে নথি নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসার পরেও কেন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না? কেন তিনি কড়া শাস্তির মুখে পড়বেন না? তিনি তো আর যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারেন না। আর এসবের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট আগামী দিনে কি বলবে, তার দিকে যখন সকলের নজর রয়েছে, ঠিক তখনই গোটা বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর যন্ত্রনা বাড়িয়ে দিলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।

ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, আইপ্যাকের অফিসে এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির পৌঁছে যাওয়া এবং তারপর সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পৌঁছে যাওয়া এবং সেখান থেকে তিনি বেশ কিছু নথি নিয়ে যেভাবে বেরিয়ে এসেছিলেন, সেই বিষয়টি নিয়ে। ইতিমধ্যেই আজ কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যেহেতু মামলা রয়েছে, তাই ইডির বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চলাকালীন যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী নথি নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন, তাতে তার বিরুদ্ধে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে। আগামী দিনে সেই মামলার গতিপ্রকৃতির দিকে সকলের নজর থাকবে। বিরোধীরা বলছেন যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার কড়া শাস্তি গ্রহণ করতে হবে। আর এই পরিস্থিতিতে আজ প্রশাসনিক পদে থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নিয়মভঙ্গ করেছেন এবং যেভাবে তল্লাশি চলাকালীন একটি জায়গায় গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তিনি বেশ কিছু নথি সেখান থেকে নিয়ে চলে এসেছেন, তাতে তার বিরুদ্ধেও শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেই দাবি করলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। আর সেখানেই তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে এতদিন আমরা ডাকাত রানী বলতাম। কিন্তু তিনি যে সেটা এত তাড়াতাড়ি প্রমাণ করে দেবেন, তা আমরা সত্যিই ভাবতে পারিনি। আজকে যদি তিনি মনে করে থাকেন যে, সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি অসাংবিধানিক কাজ করবেন, অবশ্য তিনি বরাবরই এরকম কাজই করে এসেছেন। সেটা তো করা যায় না। যেখানে একটি তদন্ত চলছে, সেখানে ঢুকে আপনি ফাইল, সিডি, ফোন নিয়ে বেরিয়ে যাবেন, এটা হতে পারে না। সুতরাং মুখ্যমন্ত্রী আইন শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে নন। ওনাকে এর মুখোমুখি হতে হবে।”