প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রথযাত্রার মহা-পুণ্য তিথিতেই ওড়িশার শ্রীক্ষেত্র থেকে ধেয়ে এল এক নজিরবিহীন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহাবিস্ফোরণ, যা এক ঝটকায় তোলপাড় করে দিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলকে! দিঘায় নতুন জগন্নাথ মন্দির তৈরি এবং রাজ্যের ক্ষমতা বদল নিয়ে এবার সরাসরি ঈশ্বরের ‘অলৌকিক বিচার’ ও ‘অহংকার’ তত্ত্ব টেনে আনলেন পুরীর শ্রীমন্দিরের প্রধান সেবায়েত বা মুখ্য পানীগ্রাহী জগন্নাথ দৈতাপতি। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে দাবি করেছেন, শাস্ত্রীয় নিয়ম এবং অভিজ্ঞ সেবায়েতদের আবেগকে বুড়ো আঙুল দেখানোর চরম সাজা ভোগ করতে হয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে।

পুরীর প্রধান দৈতাপতি সেবায়েত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দিঘায় যখন পুরীর আদলে মন্দির গড়ার কাজ চলছিল, তখন তিনি নিজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করে সঠিক বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কোনো কথাই কানে তোলেননি। আমরা বারবার বারণ ও নিষেধ করা সত্ত্বেও উনি দিঘার ওই মন্দিরের নামের আগে জোর করে ‘ধাম’ শব্দ জুড়ে দিলেন।”এখানেই শেষ নয়, শ্রীক্ষেত্রের আদি ও অকৃত্রিম ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে তিনি আরও যোগ করেন, মহাপ্রভু জগন্নাথের লীলা ও শাস্ত্রীয় নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। পুরীতে ঐতিহ্য মেনে কাঠে মূর্তি গড়া হলেও দিঘায় বসানো হয়েছে পাথরের বিগ্রহ। দৈতাপতির সাফ কথা, পর্যটন ও ভক্তির টানে দেশ জুড়ে এমন হাজারটা মন্দির গড়ে তোলাই যায়, কিন্তু পুরীর আসল ধামের সমতুল্য তা কোনোদিনই হতে পারে না।

তীব্র ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করে প্রধান সেবায়েত মন্তব্য করেন, “ভগবান শ্রীজগন্নাথ কারো অহংকার বা গর্ব বেশিদিন সহ্য করেন না।” এই প্রসঙ্গে সরাসরি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট টেনে এনে তিনি জানান, শুভেন্দু তাঁর পরম শিষ্য এবং তিনিই ‘খাঁটি সোনা’। সেবায়েতদের শাস্ত্রীয় পরামর্শকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দিঘার মন্দিরকে ঘিরে অহংকার করার কারণেই ঈশ্বরের বিচারে আজ ‘গভর্নমেন্ট উল্টে গেছে’ এবং বিদায়ী শাসকের পতন ঘটেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দৈতাপতির এই ভিডিও বয়ান ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে তা দাবানলের মতো ভাইরাল হয়ে গেছে। রথের রশিতে টান পড়ার মাঝেই তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে দুই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তবে নিজের বক্তব্যের সপক্ষে দৈতাপতির সাফ দাবি, “আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা পলিটিক্স করি না। যেটা ধর্মীয় দিক থেকে পরম সত্য, ঐতিহাসিক ও শাস্ত্রসম্মত নিয়ম, আমি কেবল সেটাই অকপটে সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছি।”