প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তিলোত্তমার বুকে আরও এক মর্মান্তিক মৃত্যু। আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটের লিফটে আটকে এক অসহায় বাবার মৃত্যু ফের একবার রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্দরমহলকে জনসমক্ষে নগ্ন করে দিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের ‘চরম উদাসীনতা’র প্রতিফলন। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্য সরকার যখন বিশ্ববাংলা বা নীল-সাদা রঙের প্রলেপে উন্নয়নের জয়গান গাইছে, তখন হাসপাতালের লিফট বা জরুরি পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণে এই ধরনের গাফিলতি শাসক শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে সরাসরি ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’ হিসেবে দেগে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের স্পর্শকাতর জায়গায় লিফট বিকল হয়ে এক ঘণ্টা আটকে থাকা এবং উদ্ধারকাজে বিলম্ব হওয়া— প্রশাসনের নজরদারির অভাবকেই স্পষ্ট করে।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বিরোধী শিবির প্রশ্ন তুলছে, হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা আসলে খরচ হচ্ছে কোথায়?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যদি রক্ষণাবেক্ষণের ঠিকাদারিতেও ‘ফেভারিটিজম’ বা দুর্নীতির ছায়া থাকে, তবে তার দায়ভার সরাসরি নবান্ন এবং স্বাস্থ্য ভবনকেই নিতে হবে। শুভেন্দু অধিকারীর ভাষায়, এটি একটি ‘সরকারি খুন’, যা রাজ্য প্রশাসনের পচে যাওয়া কঙ্কালসার রূপকে উন্মোচিত করেছে।

এদিকে নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে আরজিকরের এই ঘটনা শাসক দলের ‘সুশাসন’-এর দাবিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন— যে হাসপাতালে মানুষ জীবন বাঁচাতে আসে, সেই হাসপাতালের যন্ত্রই কি এখন মরণফাঁদ? স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি বিরোধীরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার যদি অবিলম্বে দায়বদ্ধতা স্বীকার করে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই ‘লিফট-ট্র্যাজেডি’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। উন্নয়নের গালভরা বুলির আড়ালে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা যে কোনো সরকারের জন্যই বড় পরাজয়।