প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
শোক যখন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, তখন তা শাসকের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আরজিকরের সেই অভিশপ্ত রাতের ক্ষত আজও টাটকা বাংলার প্রতিটি ঘরে। তিলোত্তমার বিচার চেয়ে রাজপথের যে লড়াই শুরু হয়েছিল, এবার কি তার প্রতিধ্বনি শোনা যাবে বিধানসভার অন্দরে? অভয়ার মায়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে যে জল্পনা তুঙ্গে, তাকেই এক অনন্য রাজনৈতিক ও মানবিক মাত্রা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী আজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটা দেখছেন অন্যরা দেখছেন, আমি তো মনে করি ওনার বিধানসভায় লড়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা উচিত। কারণ আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেও কেউ যদি চলে যায় বা গত হয়, তাকে তো ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ঈশ্বর কাউকে দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য বোন বা মেয়েদের সম্মান রক্ষা করার জন্য উনি যে উদ্যোগটা নিয়েছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে স্বাগত জানাই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই মন্তব্য কেবল এক শোকাতুর মায়ের প্রতি সমবেদনা নয়, বরং তৃণমূল সরকারের ‘নারী নিরাপত্তা’র দাবিকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
তৃণমূল যখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দিয়ে নারী সুরক্ষার জয়গান গায়, তখন কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (NCRB)-র সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২২ সালের রিপোর্ট (যা ২০২৩-এর শেষে প্রকাশ্যে আসে) এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। এনসিআরবি-র ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, নারী নির্যাতনের তালিকায় বিশেষ করে ‘স্বামী বা আত্মীয় দ্বারা নিষ্ঠুরতা’ (IPC ৪৯৮এ)-র ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে অত্যন্ত শীর্ষে। নারী ও শিশু নিখোঁজ হওয়ার পরিসংখ্যানেও এই রাজ্য জাতীয় গড়ের নিরিখে উদ্বেগজনক স্থানে রয়েছে। আরজিকর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, প্রশাসনের একাংশ তথ্যপ্রমাণ নিয়ে ঠিক কতটা উদাসীন ছিল।
শুভেন্দু অধিকারীর এই কৌশলী পদক্ষেপে তৃণমূল কার্যত দিশেহারা। যদি অভয়ার মা বিধানসভায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন, তবে শাসক দলের সাজানো ‘উন্নয়নের মডেল’ তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়বে। শুভেন্দু মনে করেন, এই লড়াইটা কেবল ভোটের নয়, এই লড়াইটা বাংলার মেয়েদের অস্তিত্ব রক্ষার। যখন পুলিশ প্রশাসনের নজরদারিতেই হাসপাতালের ভেতর চিকিৎসক কন্যাকে নারকীয় পাশবিকতার শিকার হতে হয়, তখন সেই বিচার নিশ্চিত করতে হলে জনমতকে সরাসরি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে দিতে হবে।
রক্তভেজা আরজিকরের মাটি থেকে আজ যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে, শুভেন্দু অধিকারী সেই আগুনকে বিধানসভার প্রদীপে পরিণত করতে চাইছেন। কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং তথ্যনিষ্ঠ পরিসংখ্যান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই ডাক আসলে নবান্নের পুলিশি ব্যর্থতার দিকেই আঙুল তুলছে। এখন দেখার, অভয়ার মায়ের এই সম্ভাব্য লড়াই আগামীর বিধানসভা নির্বাচনে কতটা বড় রাজনৈতিক ঝড় তোলে।