প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকাল রাতেই খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলা ছিলো, তার রায় ঘোষণা হবে। একদিকে আজ রাজ্য বাজেট রয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, সেই রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের মন পাওয়ার জন্য মহার্ঘভাতা ঘোষণা করতে পারে সরকার। কিন্তু তার মধ্যেই গতকাল যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে শুনানি হয়েছে, তার যে রায়দান বাকি রয়েছে, তা হওয়ার খবর সামনে আসতেই রীতিমত উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন সরকারি কর্মচারীরা। এতদিন ধরে তারা যে আন্দোলন করেছেন, মহার্ঘ ভাতার জন্য, অবশেষে তার সুফল তারা পাবেন বলেই আশাবাদী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত আর কয়েক মিনিট পরেই যে রায়দান করতে চলেছে, তা কার পক্ষে যায়, তার জন্য উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যবাসী।

প্রসঙ্গত, গতবছরের সেপ্টেম্বর মাসেই এই মহার্ঘ ভাতা নিয়ে মামলার শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে রায় দান কবে হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় সময় সামনে এসেছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে রায়দান স্থগিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত। তবে গতকালই রাতে খবর পাওয়া যায় যে, আজ বেলা সাড়ে দশটায় এই রায়দান করবে সুপ্রিম কোর্ট। মূলত, কেন্দ্রের সরকারি কর্মচারীদের থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার ফারাক ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত সেই ফারাক ৪০ শতাংশ রয়েছে বলেই খবর। আর সেইদিক থেকে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের রীতিমত অসন্তোষ বাড়ছে। তাই সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিধানসভা নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন এই ঐতিহাসিক সুপ্রিম কোর্টের রায়দান নয়া মোড় তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের এই রায়দান একটা বড় পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। কেননা সামনেই নির্বাচন। রাজ্য সরকার বারবার করে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে যে অনীহা প্রকাশ করেছে, সেই ব্যাপারে কারও মধ্যেই কোনো দ্বিমত নেই‌। তারা বিভিন্ন রকম যুক্তি আদালতে দিয়েছে। তবে মহার্ঘ ভাতা যে তাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে, সেই ব্যাপারে পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরেই এই রাজ্যের বুকে গোটা বিষয় নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। তাই আন্দোলনকারীরাও আজ আশাবাদী যে, সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে তারা বড় কোনো রায় পাবেন। সব মিলিয়ে আর কয়েক মিনিট পরেই শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলায় কি রায়দান করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা রাজ্যবাসীর।