প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির ময়দানে রং বদলানো নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু স্বার্থের প্রয়োজনে ভোলবদলের এমন নজিরবিহীন ও নির্লজ্জ সার্কাস বোধহয় বাংলার মানুষ এর আগে দেখেনি! ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী আসনে বসা তৃণমূলের টিকিটে যিনি হুগলি থেকে সাংসদ হয়েছিলেন, আজ হঠাৎ টিভি ক্যামেরার সামনে এসে তিনি বলছেন—”দল জিতলে হয়তো এই দুর্নীতিগুলো কোনোদিন সামনেই আসত না!” এমনকি হুগলির আসনটি জেতার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন তারকা মুখের দরকার ছিল বলেও তিনি দাবি করেছেন।
প্রশ্ন হলো, মাননীয়া রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনি কি সত্যিই এতকাল কোনো এক মায়াবী কুয়াশায় বাস করছিলেন? নাকি শুধুই ক্ষমতার মধু খেতে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন? আজ যখন বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায়, যখন চারদিক থেকে বিরোধী ঘাসফুল শিবিরের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে, তখন হঠাৎ আপনার বিবেক জেগে উঠল? অতীতে যখন একের পর এক নিয়োগ দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, বালি-পাথর পাচার নিয়ে বাংলা তোলপাড় হচ্ছিল, তখন কেন মুখ খোলেননি? নাকি তখন ক্ষমতার চাদরে গা ঢাকা দিয়ে থাকাটাই বেশি আরামদায়ক ছিল? আজ বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই কি নিজেদের ‘সাধু’ প্রমাণ করার এই মরিয়া চেষ্টা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের স্পষ্ট দাবি, বাংলায় এখন বিজেপির সুশাসন চলছে। আর সেই কারণেই কি এখন সুকৌশলে সুর নরম করে গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়ানোর আগাম জমি তৈরি করছেন রচনা? আপনি দাবি করেছেন, মানুষ আপনাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছে, দলের কোনো ভূমিকা ছিল না। তাহলে ভোট চাওয়ার সময় দিদির ছবি আর জোড়াফুলের প্রতীক ব্যবহার করেছিলেন কেন? আজ নিজের স্বার্থে সেই দল এবং নেত্রীকে পিছন থেকে খোঁচা মারতে আপনার বিন্দুমাত্র দ্বিধা হলো না?
এখানেই শেষ নয়, এই খবরটি শুধু রচনার মুখোশ খোলার নয়, এটি ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্যও এক মস্ত বড় সতর্কবার্তা। দলের আদি এবং নিষ্ঠাবান কর্মীদের একাংশের বুকফাটা প্রশ্ন—বিজেপি নেতৃত্ব কি এখনও অতীত থেকে শিক্ষা নেবে না? এর আগে একঝাঁক পরিযায়ী নেতা-নেত্রীকে দলে নিয়ে কী হাল হয়েছিল, তা কি পদ্ম শিবির ভুলে গেছে? ক্ষমতার লোভী, পরিযায়ী এবং পিঠটান দেওয়া এইসব তারকাদের যদি বিজেপি আবার দলে জায়গা দেয়, তবে আগামী দিনে দলের সর্বনাশ নিশ্চিত। যারা আজ নিজের নেত্রীর বিশ্বস্ত হতে পারল না, তারা আগামীকাল বিজেপির আদর্শের প্রতি অনুগত থাকবে—এই আশা করাই চরম বোকামি। এদের দলে নেওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা এবং দলের পুরনো, সৎ কর্মীদের আবেগ নিয়ে খেলা করা। সময় এসেছে এদের মতো সুবিধাবাদীদের চিনে নেওয়ার এবং রাজনীতি থেকে দূরে রাখার। বাংলার মানুষ আর এই সুবিধাবাদের রাজনীতি বরদাস্ত করবে না।
আইনি ঘোষণাপত্র (Disclaimer): উক্ত বিশ্লেষণটি সম্পূর্ণভাবে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসমক্ষে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বক্তব্য এবং তাঁর রাজনৈতিক ডিগবাজির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্মানহানির উদ্দেশ্য নেই।