প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এবার দেশের রাজনীতিতে নজিরবিহীন ও ভয়ঙ্কর সংঘাতের রূপ নিল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাগযুদ্ধ। মঙ্গলবার দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নাম করে সরাসরি হুঁশিয়ারি দাগেন রাহুল গান্ধী। যার জবাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দেগে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের ভরাডুবির ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুজো মিটতেই নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তার ইস্তফা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।

মঙ্গলবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শরিক দলগুলির এক মেগা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে দাবি করেন, দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী এক প্রকার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেন, “আমি নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহকে স্পষ্ট বলে দিতে চাই—আপনারা ভাবছেন ক্ষমতা চিরকাল আপনাদের হাতেই থাকবে। কিন্তু মনে রাখবেন, সময় সবসময় এক থাকে না। যেদিন দেশের ক্ষমতা পরিবর্তন হবে, সেদিন যারা যারা ভারতের সংবিধানকে ধ্বংস করেছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এমন কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে যে ভবিষ্যতে কেউ দেশের লোকতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে ছেলেখেলা করার সাহস পাবে না।” রাহুল গান্ধীর এই ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

রাহুল গান্ধীর এই বেনজির আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ করে শাহ স্পষ্ট বলেন, “ভিত্তিহীন মিথ্যা কথা বলে এবং দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কালিমালিপ্ত করে রাহুল গান্ধী এদেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস কোনোদিনও অর্জন করতে পারবেন না।” রাহুলকে অহংকারী তকমা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আসলে হারের হতাশা থেকেই এই ধরণের হীন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন বিরোধী দলনেতা। দেশের মানুষ বোঝেন কারা দেশের উন্নয়ন করছে আর কারা স্রেফ রাজনীতি করতে মিথ্যা ছড়ায়। আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশবাসী আবারও কংগ্রেসকে ছুঁড়ে ফেলবে এবং বিজেপি আরও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মোদিজির নেতৃত্বেই হ্যাটট্রিক করবে।”

রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লোকসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্যু বিরোধীদের হাতে মোক্ষম অস্ত্র তুলে দিয়েছে।
যদিও সরকারের তরফে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মনগড়া বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক যুদ্ধ আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।