প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন তোলপাড়! চাঞ্চল্যকর অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নবনিযুক্ত সিকিমের রাজ্যপাল দুষ্মন্ত কুমার গৌতমের দায়িত্বভার গ্রহণ স্থগিত রাখা এবং তাঁর নিয়োগ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে আজ, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে এক কড়া চিঠি পাঠালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্র-বিরোধীদের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এক নতুন মাত্রা নিয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ (সোমবার) বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত কুমার গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া চিঠিতে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, ২০২২ সালের উত্তরাখণ্ডের চাঞ্চল্যকর অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের সিবিআই (CBI) তদন্ত এখনও চলছে এবং খোদ অঙ্কিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের তির রয়েছে এই প্রভাবশালী বিজেপি নেতার দিকেই। রাহুল গান্ধী চিঠিতে সরাসরি দাবি করেছেন, “অঙ্কিতা ভাণ্ডারির হত্যার নেপথ্যে রয়েছেন এই বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত গৌতম। তাঁর বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ ওঠার পরেও তাঁকে সিকিমের রাজ্যপাল করা হয়েছে। এই নিয়োগের সুপারিশ করে দেশের নারী সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে”।
দেশের সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৭৪(১) প্রয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য ক্যাবিনেটে ফেরত পাঠাতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপাল পদে আসীন ব্যক্তি ফৌজদারি মামলার আইনি প্রক্রিয়া থেকে বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা (Immunity) পান। রাহুল গান্ধীর আশঙ্কা, সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুষ্মন্ত গৌতম দায়িত্ব নিলে তাঁর পদমর্যাদার কারণে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া এবং আইনি ট্রায়াল সম্পূর্ণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সিবিআই-এর তদন্ত ও চার্জশিট গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ না নেওয়া পর্যন্ত দুষ্মন্ত গৌতমকে রাজ্যপালের দায়িত্বভার গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখার কড়া আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
দুষ্মন্ত গৌতমের এই বিতর্কিত নিয়োগের প্রতিবাদে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে আমরণ অবস্থান বিক্ষোভে বসেন প্রয়াত অঙ্কিতা ভাণ্ডারির অসহায় বাবা-মা। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা এবং রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে ইন্ডিয়া গেটে গিয়ে সেই আন্দোলনরত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে বসেন। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট জানান, অঙ্কিতার পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে এবং এই প্রভাবশালী ‘ভিআইপি’-র মুখোশ খুলে দিতে কংগ্রেস তাঁদের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকবে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে ১৯ বছর বয়সী রিসেপশনিস্ট অঙ্কিতা ভাণ্ডারিকে এক ভিআইপি অতিথিকে “বিশেষ অনৈতিক পরিষেবা” দিতে অস্বীকার করায় নির্মমভাবে খুন করে খালের জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। মূল অভিযুক্ত হিসেবে ওই রিসোর্টের মালিক এবং এক প্রাক্তন বিজেপি নেতার ছেলে পুলকিত আর্যসহ তিনজনকে ইতিমধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে অঙ্কিতার পরিবারের দাবি, ঘটনার মূল নেপথ্যে থাকা সেই প্রভাবশালী ‘ভিআইপি’-কে আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন এবং সেই ব্যক্তিই হলেন এই বিজেপি নেতা—যদিও অভিযুক্ত নেতা দুষ্মন্ত গৌতম এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।