প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শনিবার নবান্নের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কেবল রেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই তৈরি হয়নি, বরং পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতা আর জিদের রাজনীতিকে আক্ষরিক অর্থেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় তোপ দেগে বলেন, “এতদিন পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নকে আক্ষরিক অর্থেই আটকে রাখা হয়েছিল।” আর এই কথার সপক্ষে তিনি যে অকাট্য প্রমাণ তুলে ধরলেন, তাতে কার্যত মুখ পুড়ল ক্ষমতাচ্যুত শিবিরের।
এদিন কলকাতায় এসে ভূগর্ভস্থ ও উড়াল রেলের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি চিংড়িঘাটার মহাপরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন রেলমন্ত্রী। তীব্র কটাক্ষের সুরে তিনি মনে করিয়ে দেন, কীভাবে কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের কাজ আটকে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। কলকাতা হাইকোর্ট যখন চিংড়িঘাটায় কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছিল, তখনও স্রেফ কেন্দ্রের বিরোধিতা করার অন্ধ অহংকারে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত দৌড়েছিল তৎকালীন নবান্নের শাসকেরা। প্রশ্ন উঠছে, কার স্বার্থে এই মামলা-মোকদ্দমা? কার পকেট ভরাতে থমকে দেওয়া হয়েছিল ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের রেল ও মেট্রো প্রকল্পগুলো?
অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাকে টাকা দিতে কোনোদিন কার্পণ্য করেনি। কিন্তু সেই টাকা জমিতে ফেলার বদলে স্রেফ জমি জটের অজুহাত দিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল বছরের পর বছর। রেলমন্ত্রীর কথায়, “গোটা রাজ্য জুড়েই ওদের মনোভাব ছিল একটাই—উন্নয়নের কোনো কাজ করতে দেওয়া যাবে না।” কিন্তু মে মাসের পরিবর্তনের পর সেই বন্ধ ফাইল এখন আলোর মুখ দেখছে।
বিজেপি শিবিরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন জমানায় এবার সংঘাতের রাজনীতির চিরতরে ইতি ঘটেছে। যে নবান্ন এতদিন কেন্দ্রের প্রতি কেবল বিষোদ্গার করত, আজ সেই নবান্ন থেকেই থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলোর জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। পরাজিত শক্তি যতই এখন আদালতের যাওয়ার গল্প ফাঁদুক, বাংলার মানুষ বুঝে গেছে—উন্নয়নের চাকা আর থামানো যাবে না।