প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন যে, তার এবার ক্ষমতায় আসা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু তারপরেও তিনি চাইলেই এত শুন্য পদ থাকার পরে চাকরির ঘোষণা করতেই পারতেন। কিন্তু সেই ঘোষণা না করে যেভাবে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য তিনি দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন, তা নিয়ে সকলের মধ্যেই একটা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সকলেই হয়ত সেই ভাতার জন্য আবেদন করবেন। কিন্তু বেকার যুবক যুবতীদের মধ্যে একটা প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে যে, এই সরকার যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে ভোটের আগেই যারা চাকরির জন্য কোনো ঘোষণা করলো না, তারা তো ভোটের পরে ক্ষমতায় চলে এলে আরোই চাকরির কোনো ঘোষণা করবে না। ফলে চাকরির রাস্তা যে এই রাজ্যে তৃণমূল থাকলে একপ্রকার বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে, সেই সম্পর্কে কারোর মধ্যেই আর কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে, যে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত এত শূন্য পদ রয়েছে, সেখানে কেন চাকরির ঘোষণা না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ভাতা দিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছেন? এবার সেই কারণেরই পর্দাফাঁস করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূল সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতি যে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরোধীদের কাছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি এবারের ভোটেও যে সেই নিয়োগ দুর্নীতির কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিদায় নিশ্চিত হবে, সেই ব্যাপারেও কোনো সংশয় নেই বিরোধীদের মধ্যে। তাই তারা এবারের নির্বাচনের আগে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে আগামীকাল থেকেই যুবসাথী প্রকল্পের জন্য ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে যে, চাকরি না দিয়ে কেন বারবার ভাতা দিয়েই মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাইছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? আর সেই জায়গাতেই শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা যুক্তি, চাকরি দিলেই দুর্নীতি হবে। আর সেই দুর্নীতি হলেই সব ধরা পড়ে যাবে। আর সেই কারণেই চাকরি রাস্তায় যাচ্ছেন না এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

এদিন সল্টলেকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্যকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এবারের অন্তর্বর্তী বাজেটে চাকরির বিষয়টিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। চাকরি দিলেই পার্থ, অর্পিতারা চাকরি বিক্রি করবে। আর চাকরি বিক্রি করলেই হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট চেপে ধরবে। আর কোর্ট চেপে ধরলেই ইডি, সিবিআই আসবে। আর তারা আসলেই পার্থকে জেলে যেতে হবে, মানিককে যেতে হবে, কল্যাণময়কে যেতে হবে। জীবনকৃষ্ণকে জেলে থাকতে হবে। তাই তিনি এবার অন্তর্বর্তী বাজেটে চাকরির বিষয়টিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ১০ লক্ষের মত রাজ্য সরকারের শূন্য পদ রয়েছে। কিন্তু তিনি ওই পথে হাঁটেননি। কারণ চাকরি দিলেই এরা চাকরি বিক্রি করবে।”