প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তৃণমূলের নেতা কর্মীরাই বিরক্ত। আর তার প্রধান এবং সব থেকে বড় কারণ, ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পুরনো দিনের সঙ্গীদের ভুলে গিয়েছেন। আর সেই কারণেই শুভেন্দু অধিকারী একসময় দল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন বলেই মনে করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার অতীত, তার লড়াইয়ের সঙ্গীদের কিভাবে ভুলে যেতে পারেন, তা নিয়ে সকলের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি অনুগত তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। পুরনো এই মুখকে এবার রাজ্যসভার টিকিট দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। তার বদলে মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজীব কুমারকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। আর যারা তৃণমূলের সঙ্গে কোনোদিন যুক্ত নয়, সেই রকম দুই জনকে টিকিট দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের রাজনৈতিক লোকেদের অপমান করলেন বলেই বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

সম্প্রতি তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে চারজনের নাম ঘোষনা করা হয়। যার মধ্যে বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজীব সিনহাকে প্রার্থী করা হয়েছে। আর সেই সময় থেকেই বিরোধীরা দাবি করতে শুরু করেছিল, এই রাজীব সিনহা এতদিন রাজ্যের ডিজি ছিলেন। আর তিনি যেভাবে সারদা কেলেঙ্কারির গোটা বিষয় সম্পর্কে অবহিত, তাতে তাকে পুরস্কার দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নাম ঘোষণা করেছেন। আর আরজিকর কান্ডের সময় এই মেনকা গুরুস্বামী বিনীত গোয়েলদের বাঁচানোর ক্ষেত্রে চেষ্টা করেছিলেন। তাই তাকেও এই রাজ্যসভারপ্রার্থী করে পুরস্কৃত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এসব না করে তৃণমূল যদি নিজেদের দলের কিছু রাজনৈতিক লোকেদের টিকিট দিতো, তাহলে কি সেটা তৃণমূলের পক্ষে ভালো হতো না? ভোটের আগে তো তাহলে কর্মীরাও উজ্জীবিত হতেন! গতকাল সেই বিষয়টি তুলে ধরেই রাজনৈতিক লোকেদের কার্যতা অবসরে পাঠিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা সরকারের যে কৃতকর্ম, তা থেকে যারা তাকে বাঁচিয়েছেন, তাদের পুরস্কৃত করতেই রাজ্যসভার টিকিট দিয়েছেন বলেই কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা।

এদিন রাজ্যসভার প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “সব রাজনৈতিক লোককে তিনি বাণপ্রস্তে পাঠিয়ে এককভাবে প্রার্থী করেছেন। দুজনকে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ প্রার্থী করা হয়েছে। সারদার ইলেকট্রনিক ডিভাইস নষ্ট করার জন্য রাজীব কুমারকে পুরস্কার দিয়েছেন। আর বিনীত গোয়েলকে আরজিকরের কেসে বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য মেনকা গুরুস্বামীকে গিফট দিয়েছেন।”