প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ। ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ সরকারি চেকপোস্টে ট্রাকচালকের কাছ থেকে বেআইনিভাবে ২২ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে এক নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য প্রশাসন। পশ্চিম বর্ধমানের ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী রামপুর চেকপোস্টে (Rampur Checkpost) তোলাবাজির হাতেনাতে প্রমাণ মিলতেই খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশে সাসপেন্ড করা হলো পরিবহণ দপ্তরের দুই হাইপ্রোফাইল মোটর ভেহিক্যাল ইন্সপেক্টরকে (MVI)। এই মেগা অ্যাকশনের পর নবান্নের স্পষ্ট বার্তা— দুর্নীতি করলে রেহাই পাবেন না কেউই!
সরকারি সূত্র ও চালকের অভিযোগ অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি মালবাহী ট্রাক গ্যারেজে সাধারণ সার্ভিসিং করানোর পর স্বাভাবিকভাবেই রাস্তা দিয়ে ফিরছিল। গাড়ির সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও রামপুর চেকপোস্টে কর্তব্যরত দুই মোটর ভেহিক্যাল ইন্সপেক্টর গাড়িটিকে অন্যায়ভাবে আটকে দেন। অভিযোগ, চালককে দীর্ঘক্ষণ হেনস্থা করে চাপ দেওয়া হতে থাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য। চালক ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আইন ভেঙে গাড়িটিকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সিজ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপরই চালকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন একটি ট্যাক্স বাবদ ২২,০০০ টাকা দাবি করা হয়, যা রাজ্য সরকার অনেক আগেই সম্পূর্ণ বাতিল বা রদ করে দিয়েছে!
টাকা না দিলে গাড়ি ছাড়া হবে না দেখে নিরুপায় ট্রাকের মালিক ও চালক সরাসরি নবান্ন এবং পরিবহণ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অ্যাকশন মোডে চলে আসে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসন। পরিবহণ দপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্দেশিকা জারি করে রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত অভিযুক্ত দুই এমভিআই— নাজিমুল হক (Nazimul Haque) এবং অনুপম ব্যানার্জিকে (Anupam Banerjee) অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়। এখানেই শেষ নয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং অপরাধীদের ফৌজদারি সাজার মুখোমুখি করতে পুরো মামলাটি অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো (ACB)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আটকে রাখা ট্রাকটিকেও অবিলম্বে নিঃশর্তে খালাস করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে (X) এই কড়া সাসপেনশনের কপি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন— “Zero Tolerance for Corruption: No One is Above the Law” অর্থাৎ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন! তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রশাসনের যেকোনো স্তরে বা যেকোনো দপ্তরে দুর্নীতি বা তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলেই কড়া আইনি পদক্ষেপ ও বিভাগীয় শাস্তি অনিবার্য।