প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহের কালিয়াচকের সাম্প্রতিক অশান্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে কালিয়াচকের পরিস্থিতি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যে বাকযুদ্ধ চলছে, তা এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে বিজেপি রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ বা ৩৫৬ ধারা জারির ষড়যন্ত্র করছে, ঠিক তার পাল্টা দিতে গিয়ে এক অভাবনীয় প্রশাসনিক দাওয়াই দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কালিয়াচকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, বিজেপি অশান্তি পাকিয়ে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে চাইছে। আজ সেই দাবির সরাসরি উত্তর দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “না না, উনি মনেপ্রাণে রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছেন। আর আমরা বলছি, উনি মুখ্যমন্ত্রীর নামটা লেখা থাকুক। ওনার কাছ থেকে পুলিশ এবং পুরো আইন-শৃঙ্খলাটা কেড়ে নিক।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যের মূল সুর হলো—মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলেও তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা, বিশেষ করে পুলিশি নিয়ন্ত্রণ যাতে কেড়ে নেওয়া হয়, সেই লক্ষ্যেই এবার ঘুঁটি সাজাচ্ছে বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিবির।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কতটা ব্যাপক হতে পারে, তা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “ইলেকশন কমিশন চাইলে ৩৫৫ তো করতেই পারে। ৩১১ চাইলে করতে পারে ইলেকশন কমিশন।” উল্লেখ্য, সংবিধানের ৩৫৫ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্র কোনও রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমনে পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যদিকে ৩১১ ধারা সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে। বিরোধী দলনেতার ইঙ্গিত পরিষ্কার—যদি রাজ্য পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে কমিশন যেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে প্রশাসনের রাশ নিজেদের হাতে নেয়।
শুভেন্দু অধিকারীর সবচেয়ে বড় চমক ছিল কালিয়াচকের মত চিহ্নিত স্পর্শকাতর থানাগুলোর জন্য তাঁর দেওয়া বিশেষ প্রস্তাবটি। তিনি সরাসরি দাবি করেন, “সেন্ট্রাল প্যারামিলিটারি ফোর্সের (Central Paramilitary Forces) কমান্ডারদের থানা ইনচার্জ করে দিক না। চিহ্নিত থানাগুলোতে, যেখানে এই সমস্ত কাণ্ডকারখানা হচ্ছে, সেখানে এটা করে দিলেই ঝামেলা মিটে যায়।” সাধারণত থানার ইনচার্জ হিসেবে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরাই থাকেন। কিন্তু নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতেই যদি সরাসরি থানার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, তবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করা সম্ভব হবে বলে দাবি তাঁর।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীকে গদি থেকে না সরিয়েও তাঁর হাত-পা বেঁধে দেওয়া সম্ভব। কালিয়াচকের অশান্তিকে কেন্দ্র করে বিজেপি এখন চাইবে রাজ্য পুলিশের বদলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতেই জেলা প্রশাসনের রাশ থাকুক। শুভেন্দুর এই ‘দাওয়াই’ কি কমিশন গ্রহণ করবে? নাকি এটি কেবলই রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল? এই প্রশ্নগুলোই এখন বাংলার বাতাসে ভাসছে। কালিয়াচক থেকে কলকাতা—রাজনৈতিক এই দড়িটানাটানি এখন নির্বাচনের ফলাফলকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটাই দেখার।