প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকাল এই পশ্চিমবঙ্গের বুকে যে ঘটনা ঘটে গিয়েছে, যে ঘটনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঘটেছে, তাতে লজ্জায় মাথা কাটা গিয়েছে গোটা বাংলার। তৃণমূল সরকার যে আচরণ বিরোধীদের সঙ্গে করে, সেই সমান আচরণ দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করতেও এরা দুবার ভাবেনি। যেখানে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের শীর্ষ পদে রয়েছেন, সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গে আসার পরেও মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য তাকে স্বাগত জানাতে যায়নি। এমনকি তার অনুষ্ঠানের জায়গা বারবার বদল হওয়া নিয়েও তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে গোটা ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যেখানে আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে রিপোর্ট দিতে বলা হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। আর অবশেষে সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিলো রাজ্য।

সকলেই গতকালের ঘটনায় আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন। তৃণমূল সরকারের ঔদ্ধত্য দেখে রীতিমত বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারও। যেখানে রাষ্ট্রপতি রাজ্যে এসেছেন, সেখানে তার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এত অসহযোগিতা কেন? আর কত সব ব্যাপারে রাজনীতি করবে এই তৃণমূল সরকার? তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এমনকি রাষ্ট্রপতি নিজেও গোটা ঘটনায় যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, তা তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে রাজ্যবাসী অপেক্ষা করছিলো, কেন্দ্রীয় সরকার কি পদক্ষেপ নেয়। তার দিকেই সকলে তাকিয়ে ছিলেন। অবশেষে কেন্দ্র রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করে। আর কেন্দ্র যখন রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করে, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্রীয় সরকার মোটেই ভালোভাবে নেয়নি। আজ দিল্লি থেকেও এই ব্যাপারে একটি সভা থেকে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর পরিস্থিতি অত্যন্ত বেগতিক বুঝে আর কোনোরকম রিস্ক না নিয়ে সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রাষ্ট্রপতির অপমানের পরিপ্রেক্ষিতে যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল, সেই রিপোর্ট রাজ্যের পক্ষ থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এরপর কেন্দ্রীয় সরকার কি আরও বড় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, নাকি রাজ্যের এই রিপোর্টে সন্তুষ্ট তারা?

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তবে সেই রিপোর্টে কি লেখা রয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। আর সবথেকে বড় প্রশ্নের বিষয় যে, রাজ্য তো রিপোর্ট পাঠিয়ে দিলো। কিন্তু কেন্দ্র আদৌ সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট তো? আর যদি কেন্দ্র সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে কি তারা রাজ্যের বিরুদ্ধে আরও বড় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে? সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, রাজ্যের পক্ষ থেকে রিপোর্ট যাওয়ার পর এবার কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা রাজ্যবাসীর।