প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও ভাঙতে চলেছে দীর্ঘ কয়েক দশকের পুরোনো রেকর্ড। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার উত্তরবঙ্গের কোনো ভূমিপুত্র বসতে চলেছেন রাজ্য বিধানসভার সর্বোচ্চ সাংবিধানিক তথা অধ্যক্ষের (স্পিকার) আসনে। বৃহস্পতিবার বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে এক বড় চমক দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু-ই হতে চলেছেন বিধানসভার পরবর্তী স্পিকার।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে উত্তরবঙ্গকে বরাবরই অবহেলার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু ২০৭ টি আসন নিয়ে বিজেপির ঐতিহাসিক সরকার গঠনের পর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন তাঁর সরকার ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর নীতিতেই বিশ্বাসী। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) এবং প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখা রথীন্দ্র বসুকে স্পিকার পদে মনোনীত করে উত্তরবঙ্গকে এক অভূতপূর্ব সম্মান দিল নতুন শাসক দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রথীন্দ্র বসুর মত একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্বকে এই আসনে বসানো অত্যন্ত মার্জিত এবং সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ।

স্পিকার পদের জন্য রথীন্দ্র বসুর নাম ঘোষণা করার পাশাপাশি বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের সংসদীয় সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “সর্বসম্মতভাবে স্পিকার নির্বাচন করাটাই পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য। আমি আশা করব বিরোধী দল সেই ঐতিহ্য বজায় রাখবে এবং সুস্থ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করবে।” কোনো রকম সংঘাতের পথে না হেঁটে অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় বিরোধীদের গণতান্ত্রিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আগামীকাল, অর্থাৎ শুক্রবার বিধানসভায় নতুন স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। অঙ্কের বিচারে রথীন্দ্র বসুর জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮ টি আসন। সেখানে বিজেপি একাই ২০৭ টি আসন পেয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে রয়েছে। ফলে ভোটাভুটি হলেও রথীন্দ্র বসুর জয় সম্পূর্ণ সুনিশ্চিত। মনোনয়ন পাওয়ার পর অত্যন্ত বিনীত ও মার্জিত ভাষায় রথীন্দ্র বসু জানান, “দল আমার ওপর যে ভরসা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। স্পিকারের আসনটি অত্যন্ত নিরপেক্ষ একটি জায়গা। দলমত নির্বিশেষে সংবিধান মেনে এবং সমস্ত বিধায়কদের অধিকার রক্ষা করে আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে হাউস পরিচালনা করার চেষ্টা করব।”

বাংলার রাজনীতিতে এই ঘটনা যে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আগামীকাল বিধানসভার অলিন্দে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হওয়ার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।